রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি হয়েছে মিরপুর মডেল থানায় এবং একটি কাফরুল থানায়। মিরপুর মডেল থানায় করা মামলাগুলোর দুটির বাদী পুলিশ এবং একটি মামলার বাদী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তা। কাফরুল থানায় করা মামলাটিও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় কয়েক শ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের করা মামলাগুলোতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের গাড়ি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনসিসির করা মামলায় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। কাফরুল থানার মামলাটিও মূলত গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁদের থানায় ডিএনসিসির এক কর্মকর্তার করা গাড়ি পোড়ানোর মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানের একপর্যায়ে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা দোকান ও ভাসমান স্থাপনা সরানোর সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির অন্তত তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ি, একটি ভেকু এবং কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুরের শিকার হয় বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের যাচাই করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এদিকে ডিএনসিসি জানিয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ফলে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মামলার তদন্ত—দুই বিষয়ই এখন নজরে রয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণ, সহিংসতায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করাই তদন্তের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


