অভিযানের উদ্দেশ্য বা এখন পর্যন্ত কী ধরনের অনিয়মের সন্ধান পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। অভিযানে এসআরবি ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্লাবের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি ও নথিপত্র যাচাই করছেন বলে জানা গেছে। অভিযান শেষ হলে জব্দ করা মালামাল, নথি কিংবা অনিয়মের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফুয়াং ক্লাব তেজগাঁও লিংক রোডসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ক্লাবটিকে ঘিরে মদ ও বিয়ার সংরক্ষণ এবং বিক্রয়সহ নানা অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। পুরোনো একটি অভিযানে ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধারের তথ্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ক্লাবের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছিল।
নতুন করে এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালিত হওয়ায় ক্লাবটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, রাজস্ব-সংক্রান্ত নথি এবং পণ্য সংরক্ষণ বা লেনদেনের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযান চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ওয়্যারহাউসেও যৌথ অভিযান চালানো হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং এসআরবি-১-এর ওই অভিযানে অনুমোদিত সীমার বাইরে শুল্কমুক্ত মদ সংরক্ষণের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ও ঘোষিত ওয়্যারহাউস ছিল দুটি; সরেজমিনে মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পরে চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করা হয়।
শুল্কমুক্ত বা বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্দিষ্ট শর্ত ও অনুমোদিত ব্যবস্থার মধ্যে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিধান রয়েছে। অনুমোদিত গুদামের বাইরে এসব পণ্য মজুতের অভিযোগ উঠলে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে পারে। গুলশানের অভিযানে এমনই একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়্যারহাউসগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআরের তথ্য থেকে জানা যায়।
ফুয়াং ক্লাবে শনিবারের অভিযানও একই ধরনের রাজস্ব বা শুল্ক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত কি না, কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে কি না—তা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই অভিযানের ফলাফল ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে নির্ভরযোগ্য।
অভিযান শেষ হওয়ার পর উদ্ধার বা জব্দ করা সামগ্রী, সংশ্লিষ্ট নথি এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তখনই এ অভিযানের প্রকৃত কারণ ও এর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।


