কুমিল্লায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে এলাকা কাপানো শীর্ষ চার কিশোর গ্যাং প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে একযোগে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুন, অস্ত্রবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারসহ নানাবিধ ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত গ্যাং লিডারদের মধ্যে অন্যতম হলেন আলোচিত ‘টিম র’-এর গ্যাং প্রধান ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ৯টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এই চক্রের আরেক সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলামের (২০) বিরুদ্ধেও সমপরিমাণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০টি মামলা বিচারাধীন।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অন্য দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেন ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামক কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) এবং রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)। এই দুজনের বিরুদ্ধেও কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নগরী ও জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্বস্তি ও স্থায়িত্ব ফেরাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে জেলাজুড়ে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে সাঁড়াশি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহৎ এই অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে ২ হাজারের বেশি তরুণ ও কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং কালচার ও সরাসরি অপরাধে যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে অভিভাবকদের ডেকে সতর্কতামূলক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, জেলায় কোনোভাবেই গ্যাং কালচার বরদাশত করা হবে না। কিশোরদের যারা অর্থের প্রলোভন বা রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে অপরাধে প্ররোচিত করছে, সেসব নেপথ্যের গডফাদারদেরও পর্যায়ক্রমে আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে। জেলা থেকে কিশোর অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সাথে নিজের সন্তানরা কোথায় সময় কাটাচ্ছে ও কার সাথে মিশছে, সে বিষয়ে প্রতিটি পরিবার ও অভিভাবককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


