ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী বিরোধের জেরে মকবুল হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধ কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় নিহত কৃষকের ছোট ভাই দুলাল হোসেন (৫০) মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের চরভাবখালী গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মকবুল হোসেন চরভাবখালী গ্রামের প্রয়াত কসম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করেছে গৌরীপুর থানা পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চরভাবখালী এলাকায় ১৬ কাঠা আয়তনের একটি ফসলি জমি পৈতৃক সূত্রে নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন মকবুল হোসেন। জমিটি মূলত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। শনিবার সকালে ওই বিতর্কিত জমিতে শীতকালীন মাসকলাইয়ের বীজ বুনতে যান মকবুল ও তাঁর ছোট ভাই দুলাল। তাঁরা জমিতে কাজ শুরু করা মাত্রই প্রতিবেশী আমানত মিয়ার চার ছেলে—বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আব্দুর রশিদ ও আনারুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের চাষাবাদে চরম বাধা দেন।
জমির মালিকানা ও চাষাবাদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। বাকবিতণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করলে বাবুল মিয়া ও তাঁর ভাইয়েরা লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বাবুল হাতে থাকা শক্ত লাঠি দিয়ে মকবুল হোসেনের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রক্তসংক্রান্ত জখম নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলায় আহত ছোট ভাই দুলাল হোসেন অভিযোগ করেন, মকবুল মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও অভিযুক্ত চার ভাই তাঁকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। তিনি গুরুতর আহত ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের মেয়ে নাজমা আকুল কণ্ঠে বলেন, বাবা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন দেখে আমি দূর থেকে দৌড়ে এসেও বাঁচাতে পারলাম না। ওরা নৃশংসভাবে আমার বাবাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল।
সংঘর্ষ থামার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় মকবুল হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে গৌরীপুর থানা পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সতত্য মিলেছে। মূল হামলাকারীরা গা ঢাকা দিলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


