গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি করে নিয়ে জবাই করার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চুরি হওয়া গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় গরুর মালিকের ভাতিজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত থেকে শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরের মধ্যে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের পশ্চিম মাস্তা ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পরদিন বউভাতের আয়োজনকে কেন্দ্র করে চুরি করা গরুটি জবাই করা হয়েছিল বলে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম মাস্তা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের কালো রঙের একটি ক্রস জাতের গাভী বাড়ির গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে শহিদুল দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা। গোয়ালঘরে গিয়ে তিনি গরুটিকে আর দেখতে পাননি।
গরু চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে শহিদুল পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তাঁরা। সেই ছাপ অনুসরণ করে বার্না চন্দ্র শেখর, বকশিচর গ্রামের একটি বাড়ির কাছে পৌঁছান তাঁরা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে গিয়ে শহিদুল ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন দেখতে পান, চুরি যাওয়া গরুটি জবাই করে মাংস কাটার কাজ চলছে। এ সময় গরুর মালিক ও তাঁর ভাতিজা আনারুলের সঙ্গে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আনারুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আনারুল হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁর ডান হাতে কেটে যায়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামকে আটক করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা উদ্ধার করে। উদ্ধার করা এসব আলামত ঘটনাটির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গরুর মালিকের অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পরই গরুটিকে সেখানে জবাই করা হয়েছিল।
আহত আনারুলকে স্থানীয়রা একটি অজ্ঞাতনামা অটোরিকশায় করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁকে সেখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তাঁর আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের সঙ্গে উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ের বিয়ে হয়। পরদিন শনিবার সোহানের বাড়িতে বউভাতের আয়োজন ছিল। সেই অনুষ্ঠানের জন্যই রফিকুল ইসলাম চুরি করা গরুটি জবাই করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে আটক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা গরু চুরি ও জবাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তাঁদের পরিচয় বা ভূমিকা পুলিশ এখনো বিস্তারিত জানায়নি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা জব্দ করা হয়েছে। গরু চুরি, জবাই এবং আহত করার অভিযোগ—ঘটনার প্রতিটি দিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।


