রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। এর ফলে সেপ্টেম্বর মাসে যে ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রির জন্য নির্ধারিত ছিল, অক্টোবর মাসে একই পরিমাণ গ্যাসের জন্য গ্রাহকদের দিতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ব্যয় বাড়ল ২৫২ টাকা।
সেপ্টেম্বর মাসে অবশ্য এলপিজির দাম কমানো হয়েছিল। ওই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগস্টের তুলনায় ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগের মাস আগস্টে একই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
ফলে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এলপিজির দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেল। আগস্টে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে সেপ্টেম্বরে দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়। এরপর অক্টোবর মাসে এক লাফে ২৫২ টাকা বেড়ে তা দাঁড়াল ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।
এলপিজির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাসাবাড়ির রান্নার খরচে। বিশেষ করে যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসের পরিবর্তে সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তাদের মাসিক জ্বালানি ব্যয় নতুন দামের কারণে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ছোট খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের কারণে বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করে বিইআরসি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন নির্ধারিত কাঠামোর আওতায় নতুন দাম ঘোষণা করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের ওঠানামার প্রভাব স্থানীয় বাজারের দামের ওপরও পড়তে পারে।
এবারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দামের তুলনায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে অতিরিক্ত ২৫২ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ আগের ১ হাজার ৫৮৫ টাকার তুলনায় নতুন নির্ধারিত দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।
তবে সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম এবং বাজারে ভোক্তার প্রকৃত ক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হওয়ার অভিযোগ অতীতেও দেখা গেছে। পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে। এ কারণে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অক্টোবরের নতুন দামের ফলে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিয়মিত একটি বা একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তাদের রান্নার জ্বালানি বাবদ ব্যয় আগের মাসের তুলনায় স্পষ্টভাবেই বাড়বে।
সেপ্টেম্বরে সামান্য কমার পর অক্টোবরেই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


