ভূমি মন্ত্রণালয়ের জনবল নিয়োগে অসদুপায় ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত নিয়োগের পর কাগজপত্র নিবিড় যাচাই করতে গিয়ে এক ভুয়া প্রার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ৭টি ক্যাটাগরির ৩৭টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগেই। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। সরকারি বিধান ও নির্ধারিত শর্তানুযায়ী ১ অক্টোবর ৩৪ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ যোগদানপত্র দাখিল করেন।
যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদারকি দল এখানেই থেমে থাকেনি। প্রারম্ভিক সত্যতা যাচাইয়ের ধারাবাহিকতায় ৪ অক্টোবর যোগদানকারী সব কর্মচারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক নথিপত্র পুনরায় নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হয়। এই পরীক্ষার সময় লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মাইদুল ইসলামের (রোল নম্বর: ১৭০০২৭০৭) ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে।
পরীক্ষায় মূল প্রার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কর্মকর্তারা প্রার্থীর আগের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান চেহারা ও হাতের লেখা মেলানোর উদ্যোগ নেন। মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষণ করা প্রার্থীর ছবি ও শারীরবৃত্তীয় উপাত্তের সঙ্গে সেদিন উপস্থিত ব্যক্তির চেহারার স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। এরপর মৌখিক পরীক্ষার দিন নেওয়া প্রার্থীর হাতের লেখার নমুনা ও সেদিন উপস্থিত ব্যক্তির হাতের লেখা মুখোমুখি মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের গরমিল উঠে আসে।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে যোগদানকারী অন্যান্য কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। কিন্তু অন্য কোনো কর্মচারী তাকে মো. মাইদুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও সহকর্মী হিসেবে যোগদানকারী কাউকেও চিনতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, মূল পরীক্ষার্থীর বদলে অন্য কেউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে জালিয়াতি করে চাকরিতে যোগদানের চেষ্টা করছিলেন।
জনপ্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই অপচেষ্টাকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলের কাছে ভুয়া প্রার্থীকে সোপর্দ করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, সরকারি নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতি, প্রতারণা বা অসদুপায় বরদাশত করা হবে না এবং আগামীতে নিয়োগের সব ধাপে এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


