খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মা বাজারে যাওয়ার সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত যুবকের নাম শামছুল আলম। তিনি তবলছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হাজীপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটির মা নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য স্থানীয় বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ঘরে তখন ওই অবুঝ শিশুটি একাই ছিল। প্রতিবেশীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা অভিযুক্ত শামছুল আলম সুযোগ বুঝে ফাঁকা বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা এবং ঘটনার বিবরণ স্বজনদের সামনে এলে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তের বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হলে ঘরটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামছুল আলমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে পুলিশ প্রশাসন।


