পকেট খরচের টাকা জোগাড় করতে চার মাসের আপন ভাগ্নেকে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে জিয়ারুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানা-পুলিশ। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমানকে দিনাজপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত জিয়ারুল ইসলাম পার্বতীপুর উপজেলার চন্দ্রপুর হাফেজপাড়া এলাকার মনোয়ার ইসলামের ছেলে।
উদ্ধার পাওয়া চার মাসের নিষ্পাপ শিশুটির নাম মাহিম ইসলাম আনাস। সে দিনাজপুর সদর উপজেলার নেমতারা গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন ইসলাম ও মনিরা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চার মাসের কোলের শিশু আনাসকে নিয়ে পার্বতীপুর উপজেলার চন্দ্রপুর হাফেজপাড়ায় নিজের বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন মনিরা বেগম। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে স্বজনরা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগে শিশুটির মামা জিয়ারুল ইসলাম গোপনে ঘুমন্ত শিশুটিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর সে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি মানব পাচারকারী চক্রের হাতে শিশুটিকে তুলে দেয়।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্তানকে পাশে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মনিরা বেগম। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না দেখে শিশুটির বাবা-মা দ্রুত পার্বতীপুর মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে পার্বতীপুর মডেল থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল চন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়ারুল ইসলামকে আটক করে। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া স্থান থেকে শিশু আনাসকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়ারুল স্বীকার করেছে যে, কেবল নিজের ব্যক্তিগত পকেট খরচের টাকা জোগাড় করতেই সে ভাগ্নেকে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। একটি পাচারকারী চক্রের কাছে ৬০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করার চুক্তি হলেও সে পুরো টাকা হাতে পায়নি।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আল আমিন ইসলাম বাদী হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে জিয়ারুলসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই জঘন্য পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


