চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে শিক্ষক গোলাম কবিরের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. গোলাম কবির (৫৪) নামে এক সহকারী শিক্ষককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষককে একই সঙ্গে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের বিধান দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো. মাইনুদ্দিন হীরা জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. গোলাম কবির চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সত্রাজিতপুর (কাঁঠালিয়াপাড়া) গ্রামের মৃত তাজেবুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম কবির দীর্ঘদিন ধরেই তার স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার অত্যন্ত অস্বস্তিতে ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে জীববিজ্ঞান বিষয়ের অতিরিক্ত বই দেওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অফিসে ডেকে আনেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
বিকেল বেলা বিদ্যালয় প্রাংগন ফাঁকা থাকার সুযোগে গোলাম কবির ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তারা কল্যাণ ট্রাস্ট কক্ষের জানালার গ্রিল ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অবরুদ্ধ ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক গোলাম কবিরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি, নিরপেক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে আদালত এ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী এম আব্দুস সালাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অনাদায়ে আসামিকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলাটিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।