ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল প্রবাসীর স্ত্রীর

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নিজ বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে গিয়ে রোকসানা বেগম (৪০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার শিকার হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোকসানার মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার পেছনে কারা রয়েছে এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নিহত রোকসানা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মকবুল দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দুই মাস ধরে রোকসানা আশুলিয়ার উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় তাদের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ছেলে আলিফ ও মেয়ে মীমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রোকসানা বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে যান। সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি নিচে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ছাদে গিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। স্বজনদের দাবি, ওই সময় তার পরনে কোনো পোশাক ছিল না। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নও দেখতে পান তারা। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে রাত আড়াইটার দিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ধরন ও ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিহতের ভাই মো. ইরাক জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুঠোফোনে বোনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রোকসানার মৃত্যুর খবর পান। তার ভাষ্য, রোকসানার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে পরিবারের জানা নেই। ফলে বাড়ির ছাদে গিয়ে তিনি কীভাবে হত্যার শিকার হলেন, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইরাক বলেন, তার বোনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। তারপরও কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তিনি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশুলিয়া থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের আগে রোকসানার গতিবিধি, বাড়ির ছাদে যাওয়ার সময়, সেখানে কারও উপস্থিতি ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে পরিচিত কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে নির্মাণাধীন ভবনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করায় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। ছাদে যাওয়ার পথ, ভবনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করবে পুলিশ।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালানো হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।