জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোট পেয়ে মাঠের বাইরে থাকা ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুনর্বাসন ও অনুশীলন বাদ দিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে নাইটক্লাবে সময় কাটানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদনে মেতে ওঠার ঘটনায় এমবাপ্পের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের অভিজ্ঞ কোচ জোসে মরিনিও।
স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে খেলাধুলাবিষয়ক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘এল চিরিংগিতো’ জানিয়েছে, স্পেনের ভালদেবেবাসে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন সেন্টারে সকালের নাশতার সময় এমবাপ্পের সঙ্গে মরিনিওর এক চরম উত্তপ্ত ও ব্যক্তিগত কথোপকথন হয়। সেখানে কোচ মরিনিও ফরাসি ফরওয়ার্ডকে ডেকে নিয়ে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন এবং তাঁর এমন অপেশাদার আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মরিনিও সাফ জানিয়ে দেন যে, গণমাধ্যমের সামনে তিনি খেলোয়াড়কে রক্ষা করলেও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ইস্যুতে কোনো আপস করা হবে না।
ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশনস লিগের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে বাঁ হাঁটুতে চোট পান এমবাপ্পে। জাতীয় দল থেকে বিরতি নিয়ে মাদ্রিদে ফিরে দ্রুত সেরে ওঠার কথা থাকলেও তিনি ভিন্ন পথে হাঁটেন। চোটগ্রস্ত অবস্থাতেই প্যারিসের একটি অভিজাত নাইটক্লাবে বান্ধবী এসতের এক্সপোসিতোর সঙ্গে নৈশজীবন উপভোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, সুইস আল্পসের মনোরম পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাইসাইক্লিং করার ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রিদের সমর্থক ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মাঝে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। চোট থাকা অবস্থায় এমন শারীরিক ঝুঁকি নেওয়াকে ক্লাবের শৃঙ্খলা নীতির বরখেলাপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় গত সোমবার এককভাবে হাল্কা অনুশীলনে ফিরেছিলেন এমবাপ্পে। আশা করা হচ্ছিল, শনিবার লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মূল দলে দেখা যেতে পারে তাঁকে। কিন্তু কোচের সঙ্গে এই অপ্রীতিকর বিতর্কের পর মঙ্গলবার সতীর্থদের দলীয় অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন ফরাসি তারকা। ফলে ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে শুরুর একাদশে তো বটেই, এমনকি বদলি বেঞ্চেও তাঁর থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও দলের ভেতরের চাপ ও গণমাধ্যমের সমালোচনার মুখে এমবাপ্পের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কোচ মরিনিও। সে সময় তিনি সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, যে ফুটবলার একক মৌসুমে দলের হয়ে ৪০টি গোল করার সামর্থ্য রাখেন, তাকে কখনও ক্লাবের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে এবার মাঠের বাইরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে খোদ মরিনিওই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন।


