শনিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটি জানিয়েছে, পর্যটকদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি শুরুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবরোধ কত দিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য বিজয় কুমার চাকমার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবারের পরিবর্তে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সহযোগিতা চেয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক বিবৃতিতে অবরোধ কর্মসূচির পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার সাজেকের মাচালং উজো বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের দাবি অনুযায়ী, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। দলটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএসের সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে। সাজেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
সজীব চাকমার বক্তব্য, সাজেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষের ওপর নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনা আড়াল করতেই জেএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, সংগঠন দুটিকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে সংগঠন দুটি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তার প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে বলে জানান তিনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ
সাজেক ভ্যালি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই এলাকায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা বেড়াতে যান। সড়ক অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পর্যটকদের যাতায়াত, রিসোর্ট ও কটেজের কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, শুক্রবার রাতেও পর্যটনকেন্দ্রটিতে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন। অবরোধের সময় পরিবর্তন এবং কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালুর সিদ্ধান্তে তাঁদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, তিনি সড়ক অবরোধের খবর পেয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
তবে রোববার সকাল থেকে অবরোধ শুরু হলে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের হওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংগঠনগুলোর পারস্পরিক অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


