রাজধানীর মিরপুরে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের দখল গ্রহণ, প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি এবং বাধা দেওয়ায় মালিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মালিক-চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইয়াকুব আলী জানান, গত ৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আওতাধীন পাঁচটি ব্যস্ততম লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ একযোগে নিজেদের দখলে নেয়। তারা সরাসরি ঘোষণা দেয়, এখন থেকে রুটে চলাচলকারী প্রতিটি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এতে অসম্মতি জানালে চালক ও মালিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
দখলদারিত্ব ও চাঁদা আদায়ের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমর্থক ও সহযোগীরা সরাসরি যুক্ত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ সময় বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ব্যক্তির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা কেবল লেগুনা স্ট্যান্ড দখলই নয়, বরং আশপাশের ফুটপাত থেকেও নিয়মিত বেআইনিভাবে টাকা তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মালিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবহন নেতারা। হামলায় সংগঠনের সভাপতি ইয়াকুব আলী নিজে এবং নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুই লেগুনা মালিক মারাত্মক আহত হন। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসার সমস্ত আনুষ্ঠানিক নথি নিজেদের সংরক্ষণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী নেতারা জানান, ঘটনার পর আহত ইয়াকুব আলী লিখিত অভিযোগ জানাতে দারুস সালাম থানায় গিয়েছিলেন। তবে থানা পুলিশ তাঁর অভিযোগ বা মামলা গ্রহণ করেনি। ইয়াকুব আলীর নামে অতীতে থাকা চাঁদাবাজির একটি পুরোনো অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়, যদিও সেই মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত থেকে তিনি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি ইয়াকুব আলী জোর দিয়ে বলেন, স্ট্যান্ড দখল ও সশস্ত্র হামলার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি ক্লিপস এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ তাঁদের হাতে সংরক্ষিত আছে। নিরপেক্ষ যেকোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছে এসব তথ্য-প্রমাণ হস্তান্তর করতে তারা প্রস্তুত। অভিযুক্তদের দলীয় বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মিরপুর অঞ্চলে গণপরিবহন চালকদের ভয়হীন কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান ইউনিয়ন নেতারা।


