স্মরণ – ‘তুম ইতনা যো মুসকুরা রহে হো’—সুরে সুরে অমর এক বিষণ্নতার নাম – গজলসম্রাট জগজিৎ সিং

কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, মানুষের হৃদয়ের গোপন দরজায় কড়া নাড়ে। কিছু সুর শুধু কানে বাজে না, নিঃশব্দে মিশে যায় জীবনের আনন্দ, বেদনা, প্রেম, বিরহ আর নিঃসঙ্গতার সঙ্গে। সেই বিরল কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি গজলশিল্পী জগজিৎ সিং। তাঁর কণ্ঠে গজল হয়ে উঠেছিল হৃদয়ের ভাষা—সহজ, মর্মস্পর্শী অথচ গভীর আবেগে পরিপূর্ণ।

‘তুম ইতনা যো মুসকুরা রহে হো’, ‘ঝুকি ঝুকি সি নজর’, ‘হোঠোঁ সে ছু লো তুম’ কিংবা ‘চিঠি না কোই সন্দেশ’—এমন অসংখ্য গানে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে যে ভালোবাসার আসন গড়ে নিয়েছেন, তা সময়ের সঙ্গে মলিন হয়নি। তাঁর গানের মধ্যে ছিল এক আশ্চর্য মায়া; মনে হতো, শিল্পী যেন অন্য কারও জীবনের গল্প নয়, নিজের মনের কথাই গেয়ে চলেছেন।

জগজিৎ সিং ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি গজলকে অভিজাত মজলিশের সীমা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠের কোমলতা, সুরের সংযম এবং অনুভূতির গভীরতা তাঁকে করে তুলেছে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতজগতের এক অবিস্মরণীয় নাম।

জন্ম ও শৈশব

জগজিৎ সিংয়ের জন্ম ১৯৪১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে। তাঁর পিতা সর্দার অমর সিং ধিমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক একটি নিরাপদ পেশায়। কিন্তু জগজিৎ সিংয়ের হৃদয়জুড়ে ছিল সংগীতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ।

ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন। পণ্ডিত ছগনলাল শর্মা ও উস্তাদ জামাল খানসহ সংগীতগুরুদের কাছে তালিম তাঁর কণ্ঠ ও সংগীতবোধকে সমৃদ্ধ করে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাঁর স্বতন্ত্র গায়কির ভিত্তি।

পড়াশোনার জন্য তিনি জলন্ধরের ডিএভি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত গানের জগতে। হোস্টেলের কক্ষে সংগীতের যন্ত্রপাতি নিয়ে চর্চা, সুরের অনুসন্ধান আর গায়ক হয়ে ওঠার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের গন্তব্য। পারিবারিক প্রত্যাশার চেয়ে সংগীতের আহ্বানই শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠে।

আকাশবাণী থেকে মুম্বাই—স্বপ্নপূরণের দীর্ঘ পথ

সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে জগজিৎ সিং প্রথম দিকে জলন্ধর আকাশবাণী কেন্দ্রে গান গাইতেন। রেডিওতে পরিবেশনার সুযোগ তাঁর কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত করে তোলে। পাশাপাশি বিভিন্ন মঞ্চে গান গেয়ে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং নিজের শিল্পীসত্তাকে শাণিত করেন।

তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। সেই স্বপ্নের টানেই তিনি পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে—ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ ছিল না। নতুন শহর, সীমিত সুযোগ, প্রতিযোগিতা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাঁকে এগোতে হয়েছে। বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল গাওয়া, ছোট ছোট সুযোগ কাজে লাগানো এবং নিয়মিত সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন।

তিনি বুঝেছিলেন, কেবল অসাধারণ কণ্ঠ থাকলেই হয় না; শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছাতে প্রয়োজন নিজস্ব সংগীতভাষা। সেই ভাষাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।

গজলে নতুন যুগের সূচনা

জগজিৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় অবদান হলো, গজলকে আধুনিক সংগীতের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা, যাতে তার কাব্যিক সৌন্দর্য ও আবেগ অক্ষুণ্ণ থেকেও তা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে। তাঁর গায়কিতে ছিল না অকারণ অলংকারের বাহুল্য; বরং কথার অর্থ, সুরের মাধুর্য ও অনুভূতির গভীরতাই পেত প্রধান গুরুত্ব।

তিনি হারমোনিয়াম, তবলা, গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুনিপুণ ব্যবহার এবং আধুনিক রেকর্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গজলের পরিবেশনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর সংগীতায়োজনে গজল হয়ে ওঠে আরও অন্তরঙ্গ, আরও শ্রুতিমধুর এবং দৈনন্দিন জীবনের অনুভূতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত।

‘ঝুকি ঝুকি সি নজর’ গানে প্রেমের লাজুক নিবেদন, ‘হোঠোঁ সে ছু লো তুম’-এ ভালোবাসার কোমল আকুতি, আর ‘তুম ইতনা যো মুসকুরা রহে হো’ গানে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বেদনার প্রশ্ন—প্রতিটি পরিবেশনায় তিনি প্রমাণ করেছেন, সুরের গভীরতা সব সময় উচ্চকণ্ঠে প্রকাশ পায় না। কখনো কখনো মৃদু স্বরই হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর ক্ষতকে ছুঁয়ে যায়।

এই কারণেই জগজিৎ সিংয়ের গজল শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার গান হয়ে থাকেনি; জীবনের নানা বাঁকে একাকী মানুষ, স্মৃতিকাতর হৃদয়, বিচ্ছেদের বেদনায় ভারাক্রান্ত মন এবং নিঃশব্দে কষ্ট বয়ে বেড়ানো মানুষেরও আপন আশ্রয় হয়ে উঠেছে।

চিত্রা সিং—প্রেম, সংসার ও সংগীতের এক অনন্য জুটি

জগজিৎ সিংয়ের জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে তাঁর সহধর্মিণী চিত্রা সিংয়ের নাম। চিত্রাও ছিলেন একজন প্রতিভাবান গজলশিল্পী। ১৯৬৫ সালের দিকে বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল রেকর্ডিংয়ের সূত্রে তাঁদের পরিচয় ঘটে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং গড়ে তোলেন উপমহাদেশের সংগীতজগতের অন্যতম স্মরণীয় গজল-জুটি।

দুজনের কণ্ঠের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁদের যৌথ পরিবেশনাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল। তাঁরা শুধু জীবনসঙ্গী ছিলেন না; ছিলেন একে অন্যের শিল্পীজীবনের সহযাত্রী।

১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁদের দ্বৈত অ্যালবাম ‘দ্য আনফরগেটেবলস’ ভারতীয় গজলসংগীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যালবামটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং গজলকে আধুনিক রেকর্ডসংগীতের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। চলচ্চিত্রের গানের বাইরে থেকেও একটি গজল অ্যালবাম যে বিপুল শ্রোতাপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করতে পারে, তা এই অ্যালবাম নতুন করে প্রমাণ করে।

জগজিৎ ও চিত্রার যুগল পরিবেশনা শ্রোতাদের কাছে হয়ে ওঠে ভালোবাসা, সখ্য ও সংগীতের এক সুন্দর সম্মিলন। কিন্তু নিয়তি তাঁদের জীবনে এমন এক নির্মম অধ্যায় লিখে রেখেছিল, যা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতচর্চাকে গভীরভাবে বদলে দেয়।

সন্তান হারানোর অসহনীয় শোক

১৯৯০ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র পুত্র বিবেক সিংয়ের মৃত্যু ঘটে। এই আকস্মিক শোক জগজিৎ সিং ও চিত্রা সিংয়ের জীবনে গভীর অন্ধকার নামিয়ে আনে। যে সংসারে সংগীত ছিল আনন্দ ও ভালোবাসার অন্যতম আশ্রয়, সেই সংসারেই নেমে আসে এমন এক নীরবতা, যার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

সন্তান হারানোর এই বেদনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে যেমন বিপর্যস্ত করে, তেমনি তাঁদের সংগীতজীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলে। তাঁরা কিছু সময়ের জন্য সংগীতজগৎ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। বিশেষ করে চিত্রা সিং দীর্ঘদিন গান থেকে দূরে থাকেন।

একজন শিল্পী মানুষের হৃদয়ের দুঃখকে সুরে রূপ দিতে পারেন, কিন্তু নিজের জীবনের গভীরতম শোকের মুখোমুখি হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। জগজিৎ সিংয়ের গানের বিষণ্নতা ও মর্মস্পর্শী আবেগকে তাই অনেক শ্রোতা নতুনভাবে অনুভব করেন এই পারিবারিক ট্র্যাজেডির কথা জানার পর।

তবে তাঁর গানকে শুধু ব্যক্তিগত শোকের প্রতিফলন হিসেবে দেখলে তাঁর শিল্পীসত্তার ব্যাপ্তি সীমিত হয়ে যায়। তিনি জীবনের বিচিত্র অনুভূতিকে এমনভাবে গানে ধারণ করেছিলেন যে, প্রতিটি শ্রোতা নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির সঙ্গে তাঁর সুরের মিল খুঁজে নিতে পারেন।

‘নয়া দিশা’ ও ‘সমবেদনা’: কবিতা, সুর ও রাষ্ট্রীয় অনুভব

জগজিৎ সিংয়ের সংগীতজীবন শুধু প্রেম, বিরহ কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। কবিতা, ভাবনা ও জনজীবনের বিভিন্ন অনুভূতিকেও তিনি সুরের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

১৯৯৯ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির কবিতাভিত্তিক অ্যালবাম ‘নয়া দিশা’-র সংগীতায়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাজপেয়ির কবিতার ভাষা, অনুভব ও চিন্তাকে সুরের আবহে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের শিল্পীসত্তার আরেকটি দিক প্রকাশ করেন।

২০০২ সালে প্রকাশিত ‘সমবেদনা’ অ্যালবামেও তাঁর সংগীতায়োজন ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে অমিতাভ বচ্চন ও শাহরুখ খানের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বের কণ্ঠে কবিতার পরিবেশনা স্থান পায়। এ ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে জগজিৎ সিং প্রমাণ করেন, সংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি কবিতা, চিন্তা ও মানুষের অনুভূতির মধ্যে সেতুবন্ধনও তৈরি করতে পারে।

চলচ্চিত্রের গানেও অমলিন স্বাক্ষর

গজলশিল্পী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও চলচ্চিত্রের গানেও জগজিৎ সিং রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান। তাঁর কণ্ঠে ‘তুম ইতনা যো মুসকুরা রহে হো’ গানটি চলচ্চিত্র আর্থ (১৯৮২)-এর অন্যতম হৃদয়স্পর্শী সৃষ্টি। গানটির কথায় রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন—মানুষ যখন হাসে, সেই হাসির আড়ালে কি সব সময় সুখ থাকে?

একই চলচ্চিত্রের ‘ঝুকি ঝুকি সি নজর’ গানটিও শ্রোতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এ ছাড়া ‘হোঠোঁ সে ছু লো তুম’ তাঁর গাওয়া অন্যতম স্মরণীয় গান হিসেবে আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

পরবর্তী সময়ে ‘চিঠি না কোই সন্দেশ’ গানটি বিচ্ছেদ ও শূন্যতার এক অনন্য সংগীতপ্রকাশ হয়ে ওঠে। প্রিয়জনের অনুপস্থিতি, অপেক্ষা এবং না-পাওয়ার যন্ত্রণা—সবকিছু যেন তাঁর কণ্ঠে একাকার হয়ে যায়।

তাঁর গানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সংযম। তিনি শ্রোতাকে আবেগে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য কণ্ঠের জোর বাড়াতেন না; বরং শব্দের অন্তর্নিহিত অনুভূতিকে ধীরে ধীরে হৃদয়ে পৌঁছে দিতেন। এই শিল্পীসুলভ সংযমই তাঁর গানকে দিয়েছে দীর্ঘস্থায়ী আবেদন।

পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতি

জগজিৎ সিংয়ের সংগীতপ্রতিভা শুধু শ্রোতাদের ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ভারত সরকার ২০০৩ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। ভারতীয় গজলসংগীতে তাঁর দীর্ঘ অবদান, স্বতন্ত্র গায়কির ধারা এবং সংগীতকে বৃহত্তর শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তবে তাঁর প্রকৃত পুরস্কার ছিল মানুষের ভালোবাসা। সংগীতানুষ্ঠানে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হওয়া শ্রোতা থেকে শুরু করে নিভৃত রাতে হেডফোনে তাঁর গজল শোনা একাকী মানুষ—সবার কাছে তিনি ছিলেন একান্ত আপন।

জগজিৎ সিংয়ের গান সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়নি। বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর সুরে খুঁজে পেয়েছে প্রেমের ভাষা, বিচ্ছেদের সান্ত্বনা, স্মৃতির আবেশ এবং জীবনের গভীর অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার এক আশ্রয়।

বিদায়, কিন্তু সুরের মৃত্যু নেই

২০১১ সালের ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ৭০ বছর বয়সে জগজিৎ সিং শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে উপমহাদেশের সংগীতজগৎ হারায় এক অসামান্য শিল্পীকে। কিন্তু তাঁর কণ্ঠের মায়া, গজলের গভীরতা এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার বিরল ক্ষমতা আজও অমলিন।

শিল্পীর মৃত্যু হয়, কিন্তু শিল্পের মৃত্যু হয় না। জগজিৎ সিংয়ের ক্ষেত্রেও সত্যটি চিরন্তন হয়ে আছে। যখন কোনো বিষণ্ন বিকেলে ‘তুম ইতনা যো মুসকুরা রহে হো’ বেজে ওঠে, তখন মনে হয়, জীবনের হাসির আড়ালেও কত না বলা কথা জমে থাকে। যখন ‘চিঠি না কোই সন্দেশ’ শুনি, তখন বিচ্ছেদের বেদনা যেন ব্যক্তিগত সীমানা পেরিয়ে সবার অনুভূতির অংশ হয়ে ওঠে।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, কণ্ঠের জাদু শুধু সুরের সৌন্দর্যে নয়; মানুষের অনুভূতিকে সত্য করে তোলার মধ্যেই তার প্রকৃত শক্তি। গজলকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতজগতে সৃষ্টি করেছেন এক স্থায়ী অধ্যায়।

আজ এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর সুরের পাশাপাশি স্মরণ করি তাঁর জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসা, গভীর ব্যক্তিগত শোক এবং সংগীতের প্রতি অবিচল নিষ্ঠাকে। তাঁর গান আমাদের আনন্দের দিনে মুগ্ধ করবে, বিষণ্নতার দিনে সঙ্গ দেবে, আর নিঃসঙ্গ মুহূর্তে মনে করিয়ে দেবে—মানুষের হৃদয়ের ভাষা কখনো হারিয়ে যায় না।

গজলসম্রাট জগজিৎ সিংয়ের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আপনার কণ্ঠের মায়া, সুরের আবেশ আর গজলের অনন্ত বেদনা শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।