বিতর্ক পেরিয়ে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক কার্ডি বি

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা। জীবিকার তাগিদে সুপারমার্কেটে কাজ, এরপর স্ট্রিপ ক্লাবে কর্মজীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অকপট কথাবার্তা ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের কারণে পরিচিতি। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সংগীতজগতে প্রবেশ, তারপর একের পর এক জনপ্রিয় গান, গ্র্যামি জয় এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া। এই দীর্ঘ পথচলার নাম কার্ডি বি। বিতর্ক, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও আইনি লড়াইয়ের মধ্যেও মার্কিন সংগীতজগতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই র‍্যাপার।

১১ অক্টোবর ৩৪ বছরে পা দিয়েছেন মার্কিন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর প্রকৃত নাম বেলকালিস মারলেনিস আলমানজার। ১৯৯২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে জন্ম তাঁর। ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত কার্ডি বির মা ত্রিনিদাদের এবং বাবা ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত। শৈশব থেকেই আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠতে হয়েছে তাঁকে। তবে নিজের অতীতকে আড়াল না করে বরং জীবনের সেই অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি জনপরিচিতির অংশ করে তুলেছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সম্পদের হিসাব অনুযায়ী, কার্ডি বির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বিনিময় হার ও সম্পদের হিসাব পদ্ধতির কারণে এই পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে। তাঁর আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে সংগীত বিক্রি ও স্ট্রিমিং, কনসার্ট, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক উদ্যোগ। তবে এসব হিসাব আনুমানিক; তাঁর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষিত বিবরণ প্রকাশ্যে নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগীতের শীর্ষে

কার্ডি বির তারকাখ্যাতির শুরু সংগীত দিয়ে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরাসরি কথা বলার ধরন, হাস্যরস, অকপট স্বীকারোক্তি এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রাখঢাক না করার প্রবণতা তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। প্রচলিত তারকাসুলভ আড়ম্বরের বদলে নিজের স্বাভাবিক কথাবার্তা ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি।

২০১৫ সালে রিয়েলিটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘লাভ অ্যান্ড হিপ হপ: নিউইয়র্ক’-এ যোগ দেওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে সংগীতশিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক এবং বিনোদনজগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা দর্শকদের সামনে আসে।

তবে টেলিভিশনের জনপ্রিয়তাকে স্থায়ী সংগীতজীবনে রূপ দেওয়াই ছিল তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠানটি ছেড়ে পুরোপুরি সংগীতে মনোযোগ দেন কার্ডি। একই বছর প্রকাশিত হয় তাঁর একক গান ‘বোদাক ইয়েলো’। গানটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

এই সাফল্য ছিল মার্কিন সংগীতের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রায় দুই দশক পর কোনো একক নারী র‍্যাপারের নিজস্ব গান হিসেবে ‘বোদাক ইয়েলো’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষস্থান দখল করে। এর আগে ১৯৯৮ সালে লরিন হিলের ‘ডু ওয়াপ (দ্যাট থিং)’ একই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। গানটির সাফল্যের পর কার্ডি বি আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ছিলেন না; তিনি হয়ে ওঠেন মূলধারার সংগীতের অন্যতম আলোচিত শিল্পী।

২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘ইনভেশন অব প্রাইভেসি’ বিলবোর্ড ২০০ তালিকার শীর্ষে অভিষেক করে। অ্যালবামটির বাণিজ্যিক সাফল্য ও সমালোচকদের প্রশংসা তাঁর সংগীতজীবনকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়। ২০১৯ সালে এই অ্যালবামের জন্য সেরা র‍্যাপ অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার জেতেন তিনি। এই বিভাগে পুরস্কার পাওয়া প্রথম একক নারী র‍্যাপার হিসেবে ইতিহাস গড়েন কার্ডি।

‘আই লাইক ইট’ থেকে ‘ডব্লিউএপি’

‘বোদাক ইয়েলো’র পর কার্ডি বির জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে ‘আই লাইক ইট’ গানটির মাধ্যমে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এই গানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যাড বানি ও জে বালভিন। র‍্যাপের সঙ্গে লাতিন সংগীতের প্রভাব মিশিয়ে তৈরি গানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে ইংরেজিভাষী শ্রোতাদের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি বিস্তৃত হয়।

একই বছর মারুন ৫-এর ‘গার্লস লাইক ইউ’ গানেও অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন কার্ডি। গানটি দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় তালিকায় অবস্থান করে। পরে ‘মানি’, ‘আপ’ এবং মেগান দি স্ট্যালিয়নের সঙ্গে করা ‘ডব্লিউএপি’ তাঁর আলোচিত গানের তালিকায় যুক্ত হয়।

২০২০ সালে প্রকাশিত ‘ডব্লিউএপি’ গানটি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। এর স্পষ্ট যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা ও সংগীতচিত্র নিয়ে সমালোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি গানটি বিপুল শ্রোতাপ্রিয়তাও পেয়েছে। নারীর যৌনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনপ্রিয় সংগীতে ভাষার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

সমর্থকদের মতে, কার্ডি বি নিজের শরীর, আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার মাধ্যমে নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে সামনে এনেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ তাঁর গানের ভাষা ও উপস্থাপনাকে অতিরিক্ত স্পষ্ট বলে মনে করেন। এই মতপার্থক্য তাঁর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি জনপরিসরে তাঁকে ঘিরে বিতর্কেরও বড় কারণ।

কার্ডি বির সংগীতের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, ছন্দের ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা। গানের কথা ও ব্যক্তিত্বে তিনি যে সরাসরি ভঙ্গি বজায় রাখেন, সেটিই তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করেছে।

দীর্ঘ বিরতির পরও অ্যালবামে সাফল্য

প্রথম অ্যালবামের পর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম প্রকাশে দীর্ঘ সময় নেন কার্ডি বি। অবশেষে ২০২৫ সালে সাত বছরের বিরতি পেরিয়ে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘অ্যাম আই দ্য ড্রামা?’। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ তালিকার শীর্ষে অভিষেক করে। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর সংগীতের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ যে অটুট রয়েছে, এই সাফল্য তারই ইঙ্গিত দেয়।

দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সংগীতশিল্পীদের জন্য সহজ নয়। নতুন শিল্পীর আবির্ভাব, শ্রোতাদের রুচির পরিবর্তন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতা—সবকিছুই সংগীতজগতে প্রভাব ফেলে। কার্ডি বি এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিজের পরিচিতি ধরে রেখেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং নতুন সংগীত প্রকাশের কৌশল এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

২০২৬ সালেও নতুন গান প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ‘ডোন্ট চার্ট’ গানটি ‘জিটিএভিআই: দ্য অ্যালবাম’-এর অংশ। নতুন প্রকাশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা তাঁর চলমান সংগীতযাত্রারই অংশ।

সংগ্রামের অতীত আড়াল করেননি

কার্ডি বির জীবনের শুরুর দিকের গল্প তাঁর বর্তমান সাফল্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ব্রঙ্কসে বেড়ে ওঠার সময় আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। জীবিকা নির্বাহের জন্য সুপারমার্কেটে কাজ করেছেন। পরে স্ট্রিপার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কাজ তাঁকে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল। তাঁর অতীত নিয়ে নানা সময় সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু কার্ডি নিজের জীবনের এই অধ্যায়কে অস্বীকার করেননি। বরং জীবিকার প্রয়োজনে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং নিজের অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।

এই অকপটতা তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম ভিত্তি। অনেক ভক্ত তাঁর জীবনের গল্পে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ খুঁজে পান। তাঁদের কাছে কার্ডি বি এমন একজন শিল্পী, যিনি প্রচলিত সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের পরিচয়কে সামনে এনেছেন।

তবে তাঁর জীবনকাহিনিকে কেবল সংগ্রাম থেকে সাফল্যে পৌঁছানোর গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। তাঁর বক্তব্য, আচরণ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। তারকাখ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে জনসমক্ষে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর যে বাড়তি নজর পড়ে, সেটিও তাঁর জীবনের বাস্তবতা।

বিতর্ক ও আইনি লড়াই

কার্ডি বি যতটা জনপ্রিয়, তাঁকে ঘিরে বিতর্কও ততটাই আলোচিত। গানের কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য, অন্যদের সঙ্গে প্রকাশ্য বাক্‌বিতণ্ডা এবং ব্যক্তিগত জীবন—বিভিন্ন বিষয়েই তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

২০১৯ সালে তাঁর একটি পুরোনো বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্ট্রিপার হিসেবে কাজ করার সময় পুরুষদের মাদক প্রয়োগ করে অর্থ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তবে তাঁর বক্তব্য নিয়ে জনমত, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার আইনি নিষ্পত্তি—এসবকে এক করে দেখা ঠিক নয়।

ইউটিউব ব্যক্তিত্ব তাশা কে-র সঙ্গে আইনি বিরোধও কার্ডি বির জীবনের আলোচিত অধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাশা কে তাঁকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেছেন। ২০২২ সালে ফেডারেল জুরি কার্ডির পক্ষে রায় দেন এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেই অর্থ আদায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলে।

এ ছাড়া ২০১৮ সালে বেভারলি হিলসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে সংঘটিত কথিত হামলার অভিযোগে সাবেক এক নিরাপত্তাকর্মীর করা দেওয়ানি মামলায় ২০২৫ সালে বিচারের মুখোমুখি হন কার্ডি। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়বস্তু এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; তাই এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় আইনি অবস্থান স্পষ্ট রাখা জরুরি।

কার্ডি বির ক্ষেত্রে বিতর্ক কখনো কখনো তাঁর সংগীতের আলোচনাকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে এসব ঘটনা তাঁর জনপ্রিয়তা বা বাণিজ্যিক সাফল্যকে পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত করে না। একই সঙ্গে জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর বক্তব্য ও আচরণ যে বাড়তি সামাজিক জবাবদিহির মুখে পড়ে, সেটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অফসেটের সঙ্গে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত জীবন

কার্ডি বির ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি র‍্যাপার অফসেটের সঙ্গে। ২০১৭ সালে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁরা গোপনে বিয়ে করেন। পরে অক্টোবরে একটি অনুষ্ঠানে অফসেট প্রকাশ্যে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

বিয়ের পর তাঁদের সংসার, সন্তান এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে একাধিকবার বিচ্ছেদের গুঞ্জন ও সম্পর্কের সংকট দেখা দেয়। ব্যক্তিগত বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়গুলো আরও আলোচিত হয়।

কার্ডি বির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের এই আগ্রহ তাঁর তারকাখ্যাতির একটি জটিল দিকও তুলে ধরে। একজন শিল্পীর কাজের পাশাপাশি তাঁর সম্পর্ক, পরিবার ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এতে একদিকে জনপ্রিয়তা বাড়ে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ কীভাবে গড়লেন?

কার্ডি বির সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর সংগীতজীবনের সাফল্য। তবে তাঁর সম্পদকে কেবল গান বিক্রি বা স্ট্রিমিংয়ের আয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। জনপ্রিয় শিল্পীদের আয়ের উৎস সাধারণত বহুমুখী হয়।

তাঁর সম্ভাব্য আয়ের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো—

  • সংগীত বিক্রি ও স্ট্রিমিং: জনপ্রিয় গান ও অ্যালবাম থেকে রয়্যালটি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়।

  • কনসার্ট ও সরাসরি পরিবেশনা: সংগীতানুষ্ঠান ও অন্যান্য মঞ্চ পরিবেশনা থেকে আয়।

  • বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড-চুক্তি: বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশগ্রহণ।

  • বাণিজ্যিক উদ্যোগ: সংগীতের বাইরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সহযোগিতামূলক প্রকল্প।

  • মেধাস্বত্ব: গান ও সংশ্লিষ্ট সৃজনশীল কাজের অধিকার থেকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি আয়।

তবে সম্পদের আনুমানিক মূল্য আর হাতে থাকা নগদ অর্থ এক বিষয় নয়। সম্পদের হিসাবে বিনিয়োগ, সম্পত্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও মেধাস্বত্বের মূল্য থাকতে পারে। বিপরীতে কর, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, আইনি খরচ এবং অন্যান্য দায়ও মোট সম্পদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার হিসাবকে নিশ্চিত নগদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।