সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শ্যামনগর থানায় এ মামলা করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলম উপজেলার গুমানতলী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের সামছুর সরদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় নূর আলম জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলায়। তার মা সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় পড়াশোনার জন্য সে নানাবাড়িতে থাকত। সেখানে অবস্থানকালে সে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত। ওই শিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার সুযোগেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার অষ্টম ও দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভিডিও ধারণ করে তা ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করত। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কিংবা তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী ফোনটি ধরেন। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসার শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে।
শিশুটির বয়স কম হওয়ায় ঘটনাটি শিশু সুরক্ষা ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। শিশুটির নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও এ ধরনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ।


