ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি না করেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার জমা তহবিল থেকে সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার এক যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবলের গভর্নিং বডি কনকাকাফ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ (বাফুফে) ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশ অতিরিক্ত ১ কোটি ডলার (প্রায় ১২০ কোটি টাকা) অনুদান পাবে, যা দেশের ফুটবল অবকাঠামো ও তৃণমূলের উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রাখতে পারে।
উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি যৌথভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে ফিফার নগদ জমা তহবিল থেকে অবিলম্বে ২ বিলিয়ন ডলারের (২০০ কোটি ডলারের বেশি) তহবিল সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে ছাড় করার সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়। উয়েফা ও কনকাকাফ প্রধানদের যুক্তিমতে, বিশ্বকাপের কোনো মালিকানা বা বাণিজ্যিক স্বত্ব প্রাইভেট ইকুইটি বা বেসরকারি তহবিলের কাছে বিক্রি করার কোনো প্রয়োজনই নেই। ফিফার হাতে থাকা বিশাল উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়েই স্বাচ্ছন্দ্যে এই সহায়তা বণ্টন সম্ভব।
উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাবিত অর্থ বণ্টন কাঠামোর মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
-
ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ১ কোটি ডলার করে সরাসরি অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।
-
ফুটবল বিশ্বের ছয়টি প্রধান মহাদেশীয় কনফেডারেশনের প্রতিটিকে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
-
বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা বা সাব-কনফেডারেশনগুলোর জন্য থাকছে ৩০ লাখ ডলার করে বিশেষ বরাদ্দ।
-
প্রস্তাব অনুযায়ী ২০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সরাসরি বণ্টনের পরও ফিফার রাজকোষে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের (২৬০ কোটি ডলার) বিপুল নগদ অর্থ সংরক্ষিত থাকবে।
উয়েফা ও কনকাকাফের এই নতুন উদ্যোগের ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। মূলত ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ কোনো প্রাইভেট ফান্ড বা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে অর্থ সংস্থান করতে চেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইনফান্তিনো মূলত তার এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন।
তবে ফিফা কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য ও মহাদেশীয় কনফেডারেশনের প্রধানেরা ইনফান্তিনোর এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের অভিযোগ, নীতি-নির্ধারণী কাউন্সিলের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই ইনফান্তিনো একতরফাভাবে ফুটবলের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। মহাদেশীয় প্রধানেরা মনে করেন, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা স্বকীয়তা বাইরের প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
চিঠির পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের গভর্নিং বডিতে নতুন করে প্রশাসনিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অতিরিক্ত অর্থ বণ্টন প্রস্তাব এবং ফিফার সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনো নীতিগতভাবে সদস্য দেশগুলোকে বাড়তি তহবিল দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করলেও অর্থের চূড়ান্ত পরিমাণ ও বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সম্মেলনে তীব্র আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


