খুলনার রূপসা উপজেলায় ইটভাটার কার্যালয়ে ঢুকে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আব্দুর রহমান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। নিহত ফখরুল ইসলাম (৩২) হত্যার মামলায় তাঁকে অন্যতম আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৬। চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৬-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সদস্যরা হাটহাজারী থানা এলাকায় অভিযান চালান। ওই অভিযানেই আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। তিনি খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের আব্দুর রউফ শেখের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাতে রূপসা উপজেলার মেসার্স রূপসা ব্রিকসের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন ফখরুল ইসলাম। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত সেখানে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলার পরপরই তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ফখরুল।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইটভাটার কার্যালয়ে এভাবে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আব্দুর রহমানকে ফখরুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা, হামলার কারণ কিংবা অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অপরাধীদের আটক করার পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান চলছে।
ফখরুল ইসলাম হত্যা মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৬। মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের অংশ।


