নিহত ব্যক্তিরা হলেন অনুপ কুমার (৫৫) ও আনোয়ারুল আজিম (৪০)। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের বাড়ি নরসিংদী জেলা সদরে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, অনুপ কুমার ও আনোয়ারুল আজিম মোটরসাইকেলে করে নরসিংদী থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে বৈষামোড়া এলাকায় পৌঁছালে যানজটের কারণে তাঁদের মোটরসাইকেলটি থামাতে হয়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় দুই আরোহীই গুরুতরভাবে আহত হন। অনুপ কুমার ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আনোয়ারুল আজিমকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে চালককে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ত এ মহাসড়কে যানজটের সময় থেমে থাকা যানবাহনের পেছনে অন্য গাড়ির ধাক্কা লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাঁদের সুরক্ষায় চালকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, যানজটের কাছে পৌঁছানোর আগেই গতি কমানো এবং সড়কে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা জরুরি।
সরাইলের এ দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু আবারও মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচলের গুরুত্ব সামনে এনেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হবে।


