নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই গ্রেপ্তার করা হলো।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ। তিনি জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই যুবক দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপূর্বর বিরুদ্ধে এর আগেও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ইতিহাস রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্গাপুরের পুলিশ সদস্য মো. শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মামলার তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দোকানের সামনে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির এলাকার একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০)। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে কী কারণে তাঁকে গুলি করা হয়েছিল এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি পরিচালনা করতেন ফেসবুক পেজ
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
একজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করা, হামলার কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের ভূমিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অপূর্বর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে আরও তদন্ত প্রয়োজন। কে বা কারা সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, হামলার পেছনে কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না এবং ঘটনায় আরও কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।


