আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মিসরের কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়েরা। ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দলটি। পরবর্তী সময়ে রেফারির বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের জেরেই ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছেন তাঁরা।
মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান রেফারির ভুল সিদ্ধান্তকে দলের বিদায়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ৬০ বছর বয়সী এই কোচের এমন মন্তব্যের কারণে তাঁকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই শাস্তি পেয়েছেন তাঁর যমজ ভাই ও জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান।
তবে সবচেয়ে বেশি শাস্তি পেয়েছেন ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো। ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকারে রেফারিকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তিনি। রেফারিকে ‘জালিম’ বলে মন্তব্য করায় তাঁকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
গোল বাতিল ও পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। গোলটির আগে আক্রমণের সময় ফাউল হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। মিসরের খেলোয়াড়েরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে স্কোর যখন ২-২ ছিল, তখন পেনাল্টির আবেদন জানিয়েছিল মিসর। কিন্তু রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় দলটি। গোল বাতিল ও পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনাগুলো ম্যাচের পর মিসর শিবিরের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে রেফারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা তাঁদের কিংবা তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রেফারিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও হুমকির বিষয়টিও ফুটবলের জন্য উদ্বেগজনক।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে মিসর
ফিফার সিদ্ধান্তের পর মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা শৃঙ্খলা কমিটির কাছে শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানতে চেয়েছে। সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার পর আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এরপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।
এই নিষেধাজ্ঞা মিসরের জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। হোসাম ও ইব্রাহিম হাসানকে নভেম্বরে মালাউইর বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোতে পাওয়া যাবে না। আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও ম্যাচ পরিচালনায় তাঁদের অনুপস্থিতি দলের জন্য প্রভাব ফেলতে পারে। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে মিসরের প্রথম ম্যাচেও তাঁদের না থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে জিকোকেও জুন পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। এতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে বিকল্প খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হবে কোচিং স্টাফকে।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের পর এখন মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। সংস্থাটি আপিল করলে শাস্তি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যের কারণে মিসরের কোচ, দলের পরিচালক ও ফরোয়ার্ডকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।


