কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকা ও মহাসড়কের চেকপোস্টে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। মাদক পাচারের অভিযোগে চারজনকে আটক করার পাশাপাশি পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন বিজিবি সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে টেকনাফে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সন্দেহভাজন পাচারকারীদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাসেল (২৩), খাইরুল আমিন (২৪), শাকিল (২২) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৩১)। তাঁদের মধ্যে রাসেল কাটাখালীর মৃত কাদেরের ছেলে এবং এফডিএমএন সদস্য হিসেবে ক্যাম্প-৪-এর বি ব্লক-১-এর বাসিন্দা। খাইরুল আমিন মৃত ছিদ্দিকের ছেলে, শাকিল কাটাখালীর বক্কর আহম্মেদের ছেলে এবং মো. সাইফুল ইসলাম নুরুল ইসলামের ছেলে।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, সোমবার রাতে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ডাবল কেবিন পিকআপ হোয়াইক্যং চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে পিকআপের পেছনের আসনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবার সন্ধান পান বিজিবি সদস্যরা। সেখান থেকে মোট ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পিকআপে থাকা মো. সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে বিজিবি। গাড়ির আসনের নিচে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, তল্লাশির সময় মাদক শনাক্ত হওয়া এড়াতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, একই রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝেরকাঠি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, তিন ব্যক্তি হাতে পুঁটলি নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। তাঁদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে টহল দলের সদস্যরা তাঁদের থামার নির্দেশ দেন।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই তিন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ধাওয়া করে তাঁদের আটক করতে সক্ষম হন।
পরে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা পুঁটলি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩৪টি কার্টন পাওয়া যায়। এসব কার্টনের ভেতর থেকে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
দুটি অভিযানের মধ্যে পালংখালী সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানেই সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। সেখানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা। অন্যদিকে হোয়াইক্যং চেকপোস্টে একটি পিকআপ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১ লাখ ২০ হাজার পিস। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার।
টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় মাদক পাচার প্রতিরোধে এসব অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ এবং পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা পরিবহনের আশঙ্কা মোকাবিলায় সীমান্ত টহল ও চেকপোস্টে তল্লাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সর্বশেষ অভিযানের ক্ষেত্রেও মাদক পাচারের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় গাড়ির আসনের নিচে ইয়াবা লুকিয়ে পরিবহনের চেষ্টা করা হয়। অন্য ঘটনায় সীমান্ত অতিক্রম করে হাতে বহন করা পুঁটলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা দেশে আনার চেষ্টা করা হয় বলে বিজিবির ভাষ্যে উঠে এসেছে।
বিজিবির এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং চার সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটক করার ঘটনা সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশির প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে।


