দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পরিবারের কর্তা লালচান মিয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৫০) এবং তাঁদের মেয়ে তানিশা (১৬)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় গ্যাসের চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা লালচান মিয়া, নাছিমা বেগম ও তানিশা দগ্ধ হন।
বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দগ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহীন আলম জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ইউনিট দুটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের জানিয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, বুধবার ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে রান্নাঘরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতার প্রয়োজন
বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হলে তা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বন্ধ বা কম বায়ু চলাচলকারী স্থানে গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানোর সময় আগুন ধরে যাওয়া কিংবা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রান্নার আগে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করা জরুরি। গ্যাসের গন্ধ পেলে চুলা জ্বালানো, দিয়াশলাই ব্যবহার কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দরজা-জানালা খুলে নিরাপদে বাইরে চলে যেতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি সিলিন্ডার, রেগুলেটর, পাইপ ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
টঙ্গীর এই দুর্ঘটনায় গ্যাস লিকেজের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে এলেও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। দগ্ধ তিনজনের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।


