কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার পরপরই ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িবহরটি কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ চালানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চালান পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জ্বালানিবাহী গাড়িবহর। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার যাত্রা শেষে সকাল ১০টার পরপরই বহরটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছায়।

এ নিয়ে চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের তিনটি চালান পৌঁছাল। এর আগে গত ৩ ও ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের জন্য নির্ধারিত দুটি চালান কেন্দ্রে পৌঁছেছিল। সর্বশেষ চালানটি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের জ্বালানি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরবরাহ কার্যক্রমে আরও অগ্রগতি হলো।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে একটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্পটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিশেষ ধরনের পারমাণবিক জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এই জ্বালানি ব্যবহারের আগে নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। জ্বালানি পরিবহন, সংরক্ষণ, চুল্লিতে স্থাপন এবং পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। এ কারণে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে পৌঁছানো এবং তা নির্ধারিত স্থানে নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে জ্বালানি পৌঁছানো মানেই সংশ্লিষ্ট ইউনিটে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যাওয়া নয়। জ্বালানি গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি প্রস্তুতি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং কমিশনিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট ইউনিট চালুর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ চালানটি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় প্রকল্পের দুই ইউনিটের প্রস্তুতি কার্যক্রমে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে এ চালানে ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, জ্বালানির ধরন এবং দ্বিতীয় ইউনিটে তা ব্যবহারের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর। সর্বশেষ চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমে নতুন একটি ধাপ সম্পন্ন হলো।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।