রাজধানীর আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া এবং ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেজগাঁও ডিবি পুলিশের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ চলাকালে বাধা সৃষ্টি এবং স্থানীয় ভবনমালিকদের কাছে অর্থ দাবি করার অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল নেতা নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, কথিত চাঁদা দাবির পরিমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি। কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এসব প্রশ্নেরও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
এদিকে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ডিবি পুলিশ নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তখনো আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। এ কারণে কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য ছিল না।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, নালা, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি কিংবা কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠলে তা প্রকল্পের অগ্রগতি ও জনস্বার্থ—দুই ক্ষেত্রেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ভবনমালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
নয়ন হোসেনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখন তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা কতটা এবং ভবনমালিকদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলার বিবরণ এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।


