ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে কোমোর ৪-১ গোলের জয়ে দুটি গোল ও একটি গোলে সহায়তা করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন পাজ। ম্যাচজুড়ে তাঁর অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে করা গোলটি অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে মেসির পরিচিত গোল করার ভঙ্গি।
মেসির মতো পাজও বাঁ পায়ের ফুটবলার। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁক খুঁজে বের করা, অল্প জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণে রাখা, দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং সতীর্থদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরিতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। দূরপাল্লার বাঁকানো শটও তাঁর খেলার অন্যতম আকর্ষণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছে এই তরুণের।
শুধু খেলার ধরন নয়, পরিসংখ্যানেও মেসির সঙ্গে পাজের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলার তিনি। এই তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন মেসি, যিনি ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন।
স্পেনের তেনেরিফে জন্ম নেওয়া নিকো পাজের ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক পারিবারিকভাবেই। তাঁর বাবা পাবলো পাজ আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার। বাবার পথ অনুসরণ করে ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন নিকো। স্পেনে জন্মগ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা পাজ ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন। স্প্যানিশ ক্লাবটির ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠার সময় বল নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত দক্ষতা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের নানা দিক আয়ত্ত করেন তিনি। পরে ২০২৪ সালে ইতালির কোমোতে যোগ দেন। সেই সিদ্ধান্ত তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
কোমোতে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার পর পাজের আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি গোল করা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতেও নিজেকে কার্যকর ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
মূল প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোমো ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বশেষ ১১ ম্যাচে সাতটি গোল করেছেন পাজ। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ছয়টি গোল। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সরাসরি ১৩টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। একজন তরুণ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের জন্য এমন পারফরম্যান্স তাঁর ক্রমবর্ধমান সামর্থ্যের পরিচয় বহন করে।
কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসও পাজের ফুটবলীয় দক্ষতায় মুগ্ধ। বার্সেলোনা, আর্সেনাল ও চেলসির মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের অধীনে পাজের খেলার পরিণতিবোধ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর উন্নতি চোখে পড়ার মতো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর নিজের উচ্ছ্বাসও গোপন করেননি পাজ। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সুন্দর ম্যাচ। কখনো ভুলব না। এটা আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু।’
আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অবদান এতটাই বিস্তৃত যে তাঁর প্রকৃত বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি। ফলে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে যাঁর নামই সামনে আসুক, প্রত্যাশার চাপও থাকবে অনেক বেশি।
নিকো পাজের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। প্রতিভা ও সম্ভাবনার ঝলক দেখানোর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত ভালো খেলার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে এই তরুণের।
মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী কে হবেন, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। তবে বাঁ পায়ের জাদু, সৃজনশীল ফুটবল এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিকো পাজ যে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ তারকাদের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই প্রয়োজন: মূল প্রতিবেদনে কোমো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার ম্যাচকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচটির ফলাফল, প্রতিযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদটি প্রকাশ করা উচিত।


