বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। গত বছর পুরস্কারটির অন্যতম দাবিদার হয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছিল স্প্যানিশ এই ফুটবলারকে। তবে এবারও আশাবাদী তিনি। বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য সাফল্য উদ্যাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দিপোর্তিভো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত স্বীকৃতি অর্জন করতে পারলে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে জমকালো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। বিশেষ এই মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কোনো কার্পণ্য করতে চান না বার্সেলোনার এই তারকা।
স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম ‘কাদেনা কোপ’ জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া করেছেন ইয়ামাল। সফরে তার সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে বাবা মুনির নাসরাউই, মা শেইলা এবানা, সঙ্গী ইনেস গার্সিয়া, পরিবারের অন্য সদস্য, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজনদের। ইয়ামালের ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এই সফরে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের আগেই ইয়ামালকে বহনকারী উড়োজাহাজ লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিজয় উদ্যাপনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে সফরের পরিকল্পনায়।
এবারের ব্যালন ডি’অর আয়োজন ঘিরে রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ১৯৫৬ সালে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছিল এই পুরস্কার। প্রথম আসরে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। পুরস্কারটির ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের অনুষ্ঠান লন্ডনে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সময় তখন ২৭ অক্টোবর রাত ৩টা।
ব্যালন ডি’অর আয়োজনের সঙ্গে ফ্রান্স ফুটবলের পাশাপাশি যুক্ত রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে এই পুরস্কার।
তবে ইয়ামালের জন্য আগাম উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। গত বছরও ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রত্যাশায় প্যারিসে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জিতে নেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। ফলে প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে পরিকল্পিত বিজয়োৎসব ছাড়াই ফিরতে হয়েছিল ইয়ামালকে।
যদিও সেবার একেবারে খালি হাতে ফেরেননি বার্সেলোনার এই তরুণ। অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ কোপা ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। অল্প বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছিলেন এই স্প্যানিশ তারকা।
সাম্প্রতিক মৌসুমে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল। প্রতিবেদনে উল্লেখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্লাবটির হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১৮টি গোল করিয়েছেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি সুযোগ তৈরি, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি এবং আক্রমণ পরিচালনায় তার দক্ষতা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপারকোপা জয়ের সাফল্যও রয়েছে তার। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক নৈপুণ্যের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই তরুণ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক দক্ষতা তাকে প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে ইয়ামালকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়নে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে পুরস্কারটির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো কোনো মূল্যায়নে ইয়ামালের চেয়েও এগিয়ে রাখা হয়েছে কেইনকে।
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলের সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান এবং পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এসব বিবেচনায় ইয়ামালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে আলোচনায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে পুরস্কারটি, তা এখনো অনিশ্চিত।
গত বছরের হতাশা কাটিয়ে এবার নিজের স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে লন্ডনে উদ্যাপনের প্রস্তুতিও চলছে। তবে পরিকল্পিত সেই উৎসব বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।


