মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সমন্বিত বিশ্ব সময় (ইউটিসি) অনুযায়ী শনিবার রাত ২টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোলা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভানুয়াতুর এসপিরিতু সান্তো দ্বীপে ইউটিসি সময় রাত ৩টা ১ মিনিটে সুনামির প্রথম ঢেউ পৌঁছাতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য সময়ের পূর্বাভাস। বাস্তবে ঢেউ পৌঁছানোর সময় এর চেয়ে আগে বা পরে হতে পারে।
সতর্কতা কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, সুনামির প্রথম ঢেউটিই যে সবচেয়ে বড় হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী ঢেউগুলোও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রথম ঢেউ উপকূলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
সুনামির সম্ভাব্য প্রভাব কতটা গুরুতর হবে, তা নির্ভর করে উপকূলের ভৌগোলিক গঠন, সমুদ্রের পানির গভীরতা এবং জোয়ার-ভাটার অবস্থার ওপর। এসব কারণে একই ভূমিকম্পের প্রভাব বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে অগভীর উপকূলীয় অঞ্চলে পানির উচ্চতা ও স্রোতের পরিবর্তন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা প্রাথমিকভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এর মাত্রা, উৎপত্তিস্থল কিংবা অন্যান্য পরিমাপসংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করা হতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর সুনামির ঝুঁকি নিরূপণে এ ধরনের সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমুদ্রের তলদেশে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে বিপুল পরিমাণ পানি স্থানচ্যুত হলে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রতিটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হয় না; এর ঝুঁকি নির্ভর করে ভূমিকম্পের ধরন, অবস্থান ও সমুদ্রতলের পরিবর্তনের ওপর।
ভানুয়াতুর কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।


