ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যেতে পারত; কিছু মুখ থাকে, যাদের বেদনা হয়তো বিস্মৃতির অন্ধকারে তলিয়ে যেত। কিন্তু একজন আলোকচিত্রীর ক্যামেরা যখন সেই মুহূর্তগুলোকে স্থির করে রাখে, তখন একটি ছবি হয়ে ওঠে একটি জাতির স্মৃতি, প্রতিবাদের ভাষা এবং ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। বাংলাদেশের প্রথিতযশা আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদার ছিলেন তেমনই এক বিরল ইতিহাসসন্ধানী—যাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি শুধু ছবি তুলতেন না; সময়ের বুক থেকে ইতিহাস তুলে আনতেন।
১৯৩৯ সালের ২৪ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন রশীদ তালুকদার। তাঁর ডাকনাম কাঞ্চন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন—‘রশীদ ভাই’। যৌবনে রাজশাহীতে ‘প্রিন্স রশীদ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা আবদুল করিম তালুকদার ছিলেন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এবং মা রহিমা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মাদারীপুরের কালকিনীর দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামে। পিতার চাকরির সুবাদে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গে; আর বদলির কারণে শৈশব-কৈশোরে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করতে হয়। এভাবেই নানা জনপদ, বিচিত্র মানুষ ও জীবনের বহু রূপের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে।
ছাত্রজীবনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও পরবর্তী সময়ে ক্যামেরাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান অবলম্বন। ১৯৫৯ সালে মাত্র ৮০ টাকা মাসিক বেতনে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টে (পিআইডি) ফটো টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেই সামান্য বেতনের চাকরি থেকে যে পথচলার সূচনা, তা একসময় তাঁকে বাংলাদেশের সংবাদচিত্রের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
১৯৬২ সালে দৈনিক সংবাদে ফটোসাংবাদিক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পেশাদার আলোকচিত্র সাংবাদিকতার বর্ণাঢ্য অধ্যায়। তাঁর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার। সেই সময়ে সংবাদচিত্র ধারণ করা ছিল যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য। আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা, তাৎক্ষণিক ছবি পাঠানোর প্রযুক্তি কিংবা আজকের মতো উন্নত সরঞ্জাম ছিল না। প্রতিটি ছবি তুলতে হতো সতর্কতা, অভিজ্ঞতা ও গভীর মনোযোগ দিয়ে। অথচ প্রতিকূলতা কখনো রশীদ তালুকদারের সাহসী দৃষ্টিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
১৯৭৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন। সেখানে দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদক রাহাত খানসহ অনেক গুণী মানুষকে। প্রায় তিন দশক ইত্তেফাকে কাজ করার পর ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক অবসর তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করা ইতিহাসের আবেদনকে কখনো ম্লান করতে পারেনি।
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান: একটি ক্যামেরা, একটি জাতির জাগরণ
রশীদ তালুকদারের আলোকচিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি ঘটনার বাইরের দর্শক হয়ে থাকেননি; বরং মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের অন্তর্গত সত্যকে ধারণ করেছেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে তাঁর ক্যামেরা হয়ে উঠেছিল রাজপথের নির্ভীক সাক্ষী। স্বাধিকারের দাবিতে উত্তাল ছাত্র-জনতা, মিছিলের মুখে অদম্য তরুণেরা, পুলিশের দমন-পীড়ন, রক্তাক্ত রাজপথ এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ—সবকিছুই তিনি ধারণ করেছেন অসাধারণ দক্ষতায়।
শহীদ আসাদের আত্মদান বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক মোড়। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। সেই রক্তাক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন রশীদ তালুকদার। আন্দোলনরত মানুষের আবেগ, আসাদের রক্তমাখা শার্ট এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করা ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ তাঁর ক্যামেরায় ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।
আসাদের রক্তমাখা শার্ট কেবল একটি পোশাক ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কবি শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতা ‘আসাদের শার্ট’ও এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে রেখেছে।
এভাবেই একটি ছবি ও একটি কবিতা ভিন্ন দুটি শিল্পমাধ্যমে একই ইতিহাসের কথা বলেছে—একটি দৃশ্যমান প্রতিবাদের ভাষায়, অন্যটি শব্দের আগুনে।
‘টোকাই’: রাজপথের এক শিশুর ছবিতে জন্ম নেওয়া চরিত্র
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মিছিলের সম্মুখভাগে এক পথশিশুর উপস্থিতি রশীদ তালুকদারের ক্যামেরায় বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে ধরা পড়ে। সেই শিশুর অবয়ব ও রাজপথের বাস্তবতা পরবর্তী সময়ে শিল্পী রফিকুন্নবী—যিনি রনবী নামেও পরিচিত—সৃষ্ট জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘টোকাই’-এর সঙ্গে স্মরণীয়ভাবে যুক্ত হয়ে আছে।
‘টোকাই’ বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতার এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে পথশিশুর জীবন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের ভণ্ডামি এবং সমাজের নানা অসংগতি। রশীদ তালুকদারের সেই আলোকচিত্র ও রনবীর সৃষ্ট চরিত্রকে ঘিরে যে স্মৃতিসূত্র গড়ে উঠেছে, তা বাংলাদেশের সংবাদচিত্র ও কার্টুনশিল্পের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এই ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়—একজন আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া সাধারণ মানুষের একটি মুহূর্তও ভবিষ্যতে শিল্প, সাহিত্য ও সামাজিক চেতনার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো: ক্যামেরার পাশাপাশি দেশপ্রেমের দায়
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রশীদ তালুকদারের ভূমিকা কেবল একজন পেশাদার ফটোসাংবাদিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম, সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতি তাঁর গভীর সহমর্মিতা তাঁকে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছাকাছি নিয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিশেছেন এবং নানাভাবে তাঁদের সহায়তা করেছেন বলে তাঁর জীবনকথায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁর প্রিয় ক্যামেরাটি ছিল সব সময়ের সঙ্গী—যে ক্যামেরায় তিনি ধরে রাখতে চেয়েছেন একটি জাতির জন্মের পেছনে থাকা ত্যাগ ও সংগ্রামের চিহ্ন।
একটি জাতির স্বাধীনতা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হয় না; সেই স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রশীদ তালুকদার তাঁর আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন অসামান্য নিষ্ঠায়। তাঁর ছবিতে ধরা পড়েছে রাজপথের প্রতিরোধ, মানুষের চোখের জল, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং দুঃসময়ের মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস।
বধ্যভূমির ছবি: বিজয়ের আনন্দের আড়ালে এক জাতির গভীর ক্ষত
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু সেই বিজয়ের পেছনে ছিল অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ, স্বজন হারানোর বেদনা এবং এক ভয়াবহ গণহত্যার ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে বুদ্ধিজীবীদের মরদেহ উদ্ধারের যে হৃদয়বিদারক দৃশ্য উন্মোচিত হয়, রশীদ তালুকদারের ধারণ করা আলোকচিত্র সেই নির্মম বাস্তবতার স্মারক হয়ে আছে।
বুদ্ধিজীবীদের নিথর দেহ, স্বজনদের আহাজারি এবং বিজয়ের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকা গভীর শোক—এসব দৃশ্য কেবল সংবাদচিত্র ছিল না; ছিল মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের সাক্ষ্য। এই ছবিগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা অর্জনের মূল্য কত অসীম এবং একটি জাতির মেধা ও মননকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে।
ইতিহাসের কিছু ছবি দেখলে মানুষ আনন্দিত হয়, কিছু ছবি বিস্মিত করে, আর কিছু ছবি নীরব করে দেয়। রায়েরবাজারের সেই ছবিগুলো তেমনই—যেগুলোর দিকে তাকালে বুকের ভেতর শোক জমে, চোখের সামনে ভেসে ওঠে একাত্তরের নির্মমতা।
ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদেরও ধারণ করেছেন তাঁর ক্যামেরায়
দীর্ঘ কর্মজীবনে রশীদ তালুকদার বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জিয়াউর রহমান এবং মাদার তেরেসার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন সময়ের ছবি তাঁর কাজের পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ঘিরে ধারণ করা আলোকচিত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ভাষণ ছিল একটি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার শক্তিশালী প্রকাশ; আর সেই সময়ের ছবি আজও আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে।
তাঁর আলোকচিত্রের মূল্য এখানেই যে, তিনি শুধু বিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি ধারণ করেননি; একই সঙ্গে ধারণ করেছেন ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী ঘটনাগুলোর দৃশ্যমান প্রমাণ। তাঁর ছবির মধ্য দিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে—কেমন ছিল সেই সময়ের মানুষ, রাজপথ, আন্দোলন এবং একটি স্বাধীন দেশের জন্মের প্রেক্ষাপট।
ক্যামেরার পেছনের মানুষটি
রশীদ তালুকদার ছবি তোলার কাজ শুরু করেছিলেন আইসোলেট ক্যামেরা দিয়ে। পরে ব্যবহার করেছেন রোলিকর্ড, রোলিফ্লেক্স এবং নিকন ক্যামেরার মতো বিভিন্ন যন্ত্র। প্রযুক্তি বদলেছে, ক্যামেরার ধরন বদলেছে, কিন্তু তাঁর কাজের মূল শক্তি ছিল পর্যবেক্ষণক্ষমতা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সাহস এবং মুহূর্তের ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনুধাবনের ক্ষমতা।
একজন সংবাদচিত্রীর সবচেয়ে বড় গুণ হলো—ঘটনার ভেতর থেকে এমন দৃশ্য খুঁজে বের করা, যা সময়ের সঙ্গে আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। রশীদ তালুকদার সেই বিরল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তিনি জানতেন, আজকের একটি ছবি আগামী দিনের ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
তাঁর কাজ আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়—ইতিহাস কেবল ক্ষমতাবানদের বক্তব্য, সরকারি দলিল কিংবা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাস লুকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের মুখে, রাজপথের মিছিলে, রক্তমাখা পোশাকে, শোকাহত পরিবারের চোখে এবং সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকা একটি আলোকচিত্রে।
পুরস্কার, স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার
দীর্ঘ কর্মজীবনে রশীদ তালুকদার বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তবে তাঁর প্রকৃত অর্জন কোনো পদক বা সম্মাননার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে যাওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব।
২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রথিতযশা আলোকচিত্রী। তাঁর শারীরিক প্রস্থান ঘটেছে, কিন্তু তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করা ইতিহাস আজও জীবন্ত। যত দিন বাংলাদেশের মানুষ ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ কিংবা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস স্মরণ করবে, তত দিন তাঁর কাজের প্রাসঙ্গিকতা অম্লান থাকবে।
রশীদ তালুকদার ছিলেন সময়ের এক নির্ভীক সাক্ষী। তাঁর ক্যামেরা ছিল স্মৃতি সংরক্ষণের হাতিয়ার, তাঁর আলোকচিত্র ছিল ইতিহাসের ভাষা, আর তাঁর জীবন ছিল পেশাদার নিষ্ঠা ও দেশজ বাস্তবতার সঙ্গে নিবিড় সংযোগের এক অনন্য উদাহরণ।
আজ তাঁর স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধাভরে বলতে হয়—কিছু মানুষ ইতিহাস রচনা করেন, আর কিছু মানুষ সেই ইতিহাসকে হারিয়ে যেতে দেন না। রশীদ তালুকদার ছিলেন সেই দ্বিতীয় দলের একজন অগ্রগণ্য মানুষ।
ইতিহাসের এই আলোকচিত্রীকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র প্রণতি।
তাঁর ক্যামেরায় বন্দি মুহূর্তগুলো বেঁচে থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে; বাঙালির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের চিরন্তন সাক্ষী হয়ে।


