গাজীপুরে সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি কার্টন ও সুতার গুদামে লাগা আগুন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পশ্চিম শৈলডুবি এলাকার গুদাম দুটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে কাগজের কার্টন, সুতা, কাপড় ও টিনশেডের তৈরি দুটি গুদাম পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গুদামে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে গুদামে আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। এর ১১ মিনিট পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় আরও চারটি ইউনিট পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়।

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, কাশিমপুর থানার পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টনের গুদাম এবং এর পাশেই ডিবিএল গ্রুপের সুতার গুদামে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দুটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ইউনিটকে একযোগে কাজ করতে হয়।

তিনি জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তা পুরোপুরি নেভানোর কাজ চলছিল। গুদাম দুটি টিনশেডের হওয়ায় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন নেভানোর কাজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল পানির সংকট। আগুন নেভানোর কাজে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হওয়ায় পানির স্বল্পতা মোকাবিলা করে কর্মীদের কাজ করতে হয়েছে। কাগজের কার্টন, সুতা ও কাপড়ের মতো দাহ্য উপকরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব উপকরণে আগুন ধরে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনাও কঠিন হয়ে পড়ে। গুদামের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামালের কারণে আগুনের বিস্তার ঠেকানো ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুদামে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দাহ্য উপকরণের সংরক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পানির প্রাপ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট কার্টন ও সুতার গুদামে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখা, জরুরি বহির্গমনপথ খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আগুনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

এদিকে, গাজীপুরের এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে গুদাম দুটিতে থাকা মালামালের কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, সে সম্পর্কেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার মধ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। তবে আগুনের অবশিষ্ট তাপ বা ভেতরে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা অংশ থেকে পুনরায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চালিয়ে যাওয়া জরুরি ছিল। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও দুটি গুদাম ও সেখানে সংরক্ষিত মালামালের ক্ষয়ক্ষতি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুদাম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।