বর্তমানে ৪৬ বছর বয়সী রোনালদিনহো গত জুনে ইতালির ক্লাব রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে চুক্তির পর থেকে তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলতে দেখা যায়নি। অবশেষে শুক্রবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, আগামী ১৫ নভেম্বর ফোরলির বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে রাভেন্নার জার্সিতে মাঠে নামবেন সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ক্লাবটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোনালদিনহোর মাঠে ফেরার মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তাঁর পরিচিত হাসি, অসাধারণ দক্ষতা ও বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য আবারও দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা করছে রাভেন্না। ক্লাবটির ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন অবিশ্বাস্য মনে হলেও এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
রোনালদিনহোকে দলে নেওয়ার পেছনে রাভেন্নার মালিক ইগ্নাজিও সিপ্রিয়ানির বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিখ্যাত সিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ী আগে জানিয়েছিলেন, তিনি চান ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা রাভেন্নার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করুন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই ক্লাবটির সঙ্গে রোনালদিনহোর চুক্তি হয়। চলতি বছরের আগস্টে সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থকদের সামনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রোনালদিনহোর প্রত্যাবর্তন ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ তাঁর বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার। ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব প্যারিস সাঁ-জার্মেই (পিএসজি), বার্সেলোনা ও এসি মিলানের হয়ে খেলেছেন তিনি। বিশেষ করে বার্সেলোনায় থাকাকালে তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, সৃজনশীলতা ও প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় খেলোয়াড়ে পরিণত করে।
২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোনালদিনহো। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ওই আসরে রোনালদো ও রিভালদোর সঙ্গে তাঁর আক্রমণভাগের সমন্বয় ব্রাজিলকে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে সহায়তা করে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর ফ্রি-কিক থেকে করা গোলটি বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে।
২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে ব্যক্তিগত অর্জনের শীর্ষেও পৌঁছান তিনি। তাঁর খেলার ধরন ছিল অন্য অনেক তারকার চেয়ে আলাদা। বল পায়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো, হঠাৎ দিক পরিবর্তন, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং খেলার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। মাঠে তাঁর হাসিমুখও হয়ে উঠেছিল বিশেষ পরিচিতি।
ইতালিয়ান ফুটবলের সঙ্গেও রোনালদিনহোর রয়েছে পরিচিত সম্পর্ক। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসি মিলানের হয়ে সিরি আ-তে খেলেছেন তিনি। সেই সময় ইতালির ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর নৈপুণ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার রাভেন্নার হয়ে মাঠে নামলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইতালির ফুটবল অঙ্গনে দেখা যাবে তাঁকে।
রাভেন্না তাদের বিবৃতিতে রোনালদিনহোর বিশেষত্ব তুলে ধরে জানিয়েছে, কিছু ফুটবলার তাঁদের ট্রফি ও রেকর্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকেন, আবার কেউ মানুষের মনে জায়গা করে নেন তাঁদের খেলা দেখার আনন্দের কারণে। রোনালদিনহো এমন একজন খেলোয়াড়, যাঁর ড্রিবলিং ও হাসি ফুটবলকে দর্শকদের কাছে নিছক প্রতিযোগিতার বাইরে আনন্দের উৎসে পরিণত করেছিল।
বর্তমানে ইতালির সিরি সি লিগের নিজ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাভেন্না। ফোরলির বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি তাই ক্লাবটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিযোগিতার হিসাব-নিকাশের বাইরেও ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে রোনালদিনহোর সম্ভাব্য উপস্থিতিকে ঘিরে।
অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরে তিনি কতটা সময় খেলবেন কিংবা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাঁর ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি ক্লাবটি। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সমর্থকদের।
রোনালদিনহোর এই প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত কতটা স্মরণীয় হয়ে ওঠে, তা জানা যাবে মাঠের পারফরম্যান্সেই। তবে তাঁর মতো বিশ্বকাপজয়ী ও ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফুটবলারের আবারও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামার ঘোষণা যে বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে, তাতে সন্দেহ নেই।


