হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১,২২২

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবার প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন রয়েছেন। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২২২।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, যদিও শিশুদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে যেসব শিশুর নিয়মিত টিকাদান সম্পন্ন হয়নি, তাদের গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে।

প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লে রোগটির প্রকৃত প্রভাব নিরূপণে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। তাই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় দুই ধরনের তথ্যের পার্থক্য বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

বাড়ছে উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪।

একই সময়ে নতুন করে ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪।

উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এক নয়। হামের মতো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলেই প্রত্যেক ব্যক্তির হাম হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।

হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যার পাশাপাশি নতুন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্যও প্রাদুর্ভাবের গতিপ্রকৃতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে এককভাবে রোগের বিস্তার কমছে, নাকি বাড়ছে, তা নির্ধারণ করা যায় না। সে জন্য কয়েক দিনের ধারাবাহিক তথ্য, আক্রান্তদের অবস্থান, পরীক্ষার ফল এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও বিবেচনায় নিতে হয়।

শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান ও দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে এটি ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাম নিউমোনিয়া, তীব্র পানিশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, খেতে বা পান করতে না পারা, খিঁচুনি কিংবা অস্বাভাবিক নিস্তেজতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সন্দেহভাজন রোগীকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে যথাসম্ভব আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়ম অনুযায়ী টিকা নেওয়া। শিশুর টিকাদানের কার্ড যাচাই করে নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ডোজ বাদ পড়ে থাকলে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রোগী শনাক্ত, দ্রুত চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে নতুন আক্রান্ত, নিশ্চিত সংক্রমণ, মৃত্যু ও সুস্থতার তথ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।