ডেঙ্গুতে ১ দিনে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ ২১ হাজার

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৮ জন। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা আগের দুই বছরের পুরো বছরের হিসাব ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জন।

গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেশি। ২০২৫ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর রোগটিতে মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় ১৮ হাজার ৮৩৮ জন বেশি। ২০২৪ সালের পূর্ণ বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ২০ হাজার ৪৮৫ জন। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চলতি বছরের অসম্পূর্ণ সময়ের সঙ্গে আগের দুই বছরের পূর্ণ বছরের হিসাব তুলনা করার সময় সময়সীমার পার্থক্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি এ মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার ও পানির ট্যাংকের মতো জায়গায় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা জন্মাতে পারে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব। তবে সব রোগীর উপসর্গ একই রকম হয় না। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। জ্বর কমে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে, তাই এ সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো উচিত। নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

চলতি বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। সংক্রমণ কমাতে মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।