রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। সাথী আক্তার ওই পার্লারের মালিক। পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন সাথী আক্তার। সেখানে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসা ও আশপাশের দোকানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর দুটি শোরুম, বাসা এবং এলাকার কয়েকটি দোকান থেকে এসির তার, বিদ্যুতের লাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফেসবুক লাইভে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সাথী আক্তার বলেন, “সব হারিয়ে আজ পাগল হওয়ার মতো অবস্থা। কাকে ভোট দিয়ে আজ এই ভুক্তভোগী হলাম!”
এ সময় তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। চুরির ঘটনায় ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। ভোট দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির সমালোচনা করায় তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাতে সাথী আক্তারের পার্লারে যান। সেখানে তাঁরা তাঁর বক্তব্যের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পার্লারে ভাঙচুর কিংবা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাথী আক্তারকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পার্লারে হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সাথী আক্তার পুলিশের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। তাঁকে থানায় আটক রাখা হয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
তবে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে তাঁকে আটক রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। একইভাবে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের স্থানে চুরির ঘটনাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনাটি পরে রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনায় রূপ নেয়। তবে চুরির অভিযোগের সুরাহা, আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার এবং এ ঘটনায় আইনগতভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।


