২৭ অক্টোবরের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার: ডলার ১২৩.৬০ টাকা

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মানুষের জন্য ডলার, পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের সর্বশেষ প্রকাশিত দর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, প্রবাসী আয়গ্রহীতা, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন আর্থিক সিদ্ধান্তে মুদ্রার বিনিময় হার প্রভাব ফেলে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ অক্টোবর। ওই তালিকায় মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৭২ পয়সা। একই তালিকায় ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য

প্রকাশিত তালিকায় আটটি বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। নিচে মুদ্রাভিত্তিক হার দেওয়া হলো।

মুদ্রার নাম ক্রয়মূল্য (টাকা) বিক্রয়মূল্য (টাকা)
মার্কিন ডলার ১২৩.৬০ ১২৩.৭২
ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৪.৭৩ ১৬৪.৯২
ইউরো ১৩৮.৯১ ১৩৯.০৬
ভারতীয় রুপি ১.৩০ ১.৩০
অস্ট্রেলীয় ডলার ৮৫.৮৩ ৮৫.৯৯
সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৫৯ ৯৬.৬৯
চীনা ইউয়ান ১৮.৪৮ ১৮.৫১
জাপানি ইয়েন ০.৭৮ ০.৭৮

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তালিকাটির সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফলে ২৭ অক্টোবরের প্রকৃত লেনদেনের সময় এই হার অপরিবর্তিত ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তালিকাভুক্ত হারকে ওই দিনের সরাসরি যাচাইকৃত হার হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য কেন আলাদা?

বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়মূল্য বলতে সাধারণত কোনো ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে যে দরে বিদেশি মুদ্রা কেনেন, তা বোঝায়। অন্যদিকে বিক্রয়মূল্য হলো যে দরে গ্রাহকের কাছে বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের ধরন এবং প্রযোজ্য চার্জ অনুযায়ী প্রকৃত বিনিময়মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, প্রকাশিত তালিকার বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী ১০০ মার্কিন ডলার কিনতে প্রয়োজন হবে ১২ হাজার ৩৭২ টাকা। একই হারে ১,০০০ ডলার কিনতে লাগবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭২০ টাকা। তবে এই হিসাবের সঙ্গে ব্যাংকের কমিশন, সেবা মাশুল বা অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ যুক্ত হলে মোট খরচ বাড়তে পারে।

মুদ্রার বিনিময় হার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বৈদেশিক মুদ্রার দরের পরিবর্তন আমদানি ব্যয়, বিদেশে শিক্ষার খরচ, চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে একই পরিমাণ ডলার কিনতে তুলনামূলক বেশি টাকা প্রয়োজন হয়। আবার টাকার মূল্য বাড়লে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনার ব্যয় কমতে পারে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রবাসী আয় গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য হার এবং সুবিধা আলাদা হতে পারে। তাই তালিকাভুক্ত সাধারণ বিনিময়মূল্যকে সব ধরনের রেমিট্যান্স লেনদেনের চূড়ান্ত হার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

লেনদেনের আগে যা জানা প্রয়োজন

বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ দর যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেন, শিক্ষার ফি পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে একই দিনের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে দেওয়া হারগুলো সরবরাহ করা তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৭ অক্টোবরের সরাসরি যাচাইকৃত তথ্য হিসেবে এগুলো নিশ্চিত করা যায়নি। তাই লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কার্যকর হার জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।