মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫.৩ ওভারেই সব উইকেট হারায় পাকিস্তান। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পায়নি স্বাগতিকরা। শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটারদের কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।
ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি পাকিস্তানের। দুই ওপেনারের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। শুরুতে কিছুটা স্থিরতা এনে দিলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
বাবরের বিদায়ের পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। সাইফ বেগ ও সালমান আলি আগাও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। ফলে ব্যাটিং অর্ডারে ধস আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকায় শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগও পায়নি স্বাগতিকরা।
এ অবস্থায় এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেন হাসান নওয়াজ। তবে সতীর্থদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহায়তা না পাওয়ায় তাঁর পক্ষেও ইনিংস এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩১ বলে ১৭ রান করেন হাসান।
শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ব্যাট থেকে আসে কিছুটা দ্রুত রান। ১৩ বলে ১৫ রান করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাঁর ছোট্ট ইনিংসের সুবাদেই একশ রানের গণ্ডি পার হতে পারে পাকিস্তান। তবে দলের মোট সংগ্রহ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরির মতো হয়নি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা। ৮.৩ ওভার বল করে ৩৪ রান খরচায় পাঁচটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর কার্যকর পেস ও ধারাবাহিক বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে বিপর্যস্ত করে দেয়। সতীর্থ বোলাররাও নিয়মিত চাপ ধরে রাখতে সক্ষম হন, যার ফলে দ্রুত গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ত্রিদেশীয় এই সিরিজে পাকিস্তান আগের তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছিল এবং ফাইনালেও জায়গা নিশ্চিত করেছিল। আগের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো দলটির এমন ব্যাটিং বিপর্যয় তাই ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অন্যদিকে, মাদুশঙ্কার পাঁচ উইকেটের পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কার বোলিং শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।
১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা কতটা সফল হন, সেটিই এখন ম্যাচের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বল্প পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হলে বোলারদের শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।



