আন্তর্জাতিক আর্থিক সাময়িকী গ্লোবাল ফাইন্যান্সের ২০২৬ সালের ‘সেরা গ্রাহক ডিজিটাল ব্যাংক’ পুরস্কার অর্জন করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিজয়ীদের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং বিস্তৃত ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছে ব্যাংকটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কার অর্জনের তথ্য জানিয়েছে এমটিবি। ব্যাংকটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা চালু করা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়ানোর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ ও কার্যকর ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এমটিবির ডিজিটাল সেবার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ‘এমটিবি নিও’ অ্যাপ। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে (ডিপিএস) আবেদন করতে এবং ঋণের জন্য আবেদন জমা দিতে পারেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধাও রয়েছে অ্যাপটিতে। ফলে দৈনন্দিন ব্যাংকিংয়ের বেশ কিছু কাজ ঘরে বসেই সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।
অ্যাপটিতে যুক্ত করা হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ভয়েস ব্যাংকিং সুবিধা। কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করার এ ব্যবস্থা ডিজিটাল ব্যাংকিংকে আরও সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যাপ পরিচালনায় যাঁদের অসুবিধা হয়, তাঁদের জন্যও কণ্ঠস্বরভিত্তিক প্রযুক্তি বিকল্প সুবিধা দিতে পারে।
এমটিবি নিওতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা পার্সোনাল ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট সেবা। এমটিবির গ্রাহকদের পাশাপাশি অন্য ব্যাংকের ব্যবহারকারীরাও এ সুবিধা নিতে পারেন। এর মাধ্যমে আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব রাখা, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সচেতন করতেও এ ধরনের সেবা সহায়ক হতে পারে।
গ্রাহকসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি। এমটিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তারা এআই-চালিত কল সেন্টার এজেন্ট চালু করেছে। স্বাভাবিক কথোপকথনের মতো যোগাযোগ করতে সক্ষম এ প্রযুক্তি কার্ড সক্রিয় করা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ কিছু তথ্যের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমতে পারে।
ব্যাংকটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড ব্যাংকিং অ্যাভাটার ‘মিতা’। এমটিবির তথ্য অনুযায়ী, এটি চালুর সময় এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ছিল ব্যাংকটি। মিতা গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে তথ্য ও নির্দেশনা দিতে পারে।
মিতার মাধ্যমে রিটেইল ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই), কৃষি ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড, প্রবাসী ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং এমটিবি নিওসহ বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানা যায়। বর্তমানে এমটিবি নিও অ্যাপ ও ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্যও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করেছে এমটিবি। ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য ব্যাংকটির রয়েছে ‘ট্রেড এক্স’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য রয়েছে উন্নত ই-ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এসব সেবার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ সহজ করা এবং ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সের এ স্বীকৃতি ব্যাংকটির ডিজিটাল রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্বমানের ও গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রতিফলন এ অর্জন।
তিনি আরও বলেন, এমটিবি নিওকে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সঙ্গী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। শাখায় না গিয়েও যাতে গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে জন্য ভয়েস ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কল সেন্টার এবং ‘মিতা’র মতো প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াকে তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
এমটিবি জানিয়েছে, ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ, কণ্ঠস্বরভিত্তিক লেনদেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর গ্রাহকসেবা এবং ব্যবসায়িক লেনদেন ও অর্থায়নসংক্রান্ত প্রযুক্তির উন্নয়নে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ব্যাংকটির।
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। মোবাইল অ্যাপ, স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবা এবং কণ্ঠস্বরভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এ ধরনের সেবার কার্যকারিতা ধরে রাখতে লেনদেনের নিরাপত্তা, গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাও জরুরি। আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতির পর এমটিবির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হবে উদ্ভাবনী সেবার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের আস্থা অটুট রাখা।



