বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলার বাগিচাহাটের উত্তরে খানদিঘী শিকারীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি (চট্টমেট্রো-ব ১১-১১৭০) খানদিঘী শিকারীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে বাসটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বাসটি সড়কের ওপর উল্টে পড়ে থাকায় দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। ভোরের এই দুর্ঘটনার কারণে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে রেকার ও ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের ক্ষেত্রে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে সড়কের অবস্থা, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে চন্দনাইশের এ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


