গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পর ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। হামলায় মারাত্মক আহত ওই যুবককে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নৃশংস আক্রমণের শিকার ওই যুবকের নাম মো. আনোয়ারুল ইসলাম (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রিটন মিয়ার ছেলে। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী স্থানীয় তরুণ মাহিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় হঠাৎ রাতের অন্ধকারে নির্জন রেললাইন এলাকা থেকে এক ব্যক্তির আকুল আর্তনাদ শুনতে পান তারা। ‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন ওই যুবক। আকস্মিক কান্নার শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, রক্তে ভেসে যাচ্ছে এক যুবকের শরীর। তার পেট ও বুকসহ শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপের গভীর ক্ষত রয়েছে এবং সেখান থেকে অনবরত প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মাহিয়া ও তার বন্ধুরা কালবিলম্ব না করে রক্তাক্ত আনোয়ারুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। তারা দ্রুত তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ক্ষত গভীর হওয়া এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক জানান, যুবকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মারাত্মক ক্ষত রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে জেলা সদরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চলন্ত ট্রেনের ছাদে এ ধরনের নৃশংস হামলার পর রেলওয়ের স্থানীয় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শামীমা আক্তারের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ঘটনার খবর পেয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


