বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতার অন্য চারজন হলেন—নগরীর মধ্য বাড়েরা এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৩২), ঘাগড়া ইউনিয়নের আব্দুল সাত্তারের ছেলে সজীব মিয়া (২০), সারদা ঘোষ রোড এলাকার সুধীর চন্দ্র সিংয়ের ছেলে উৎসব সিং সাগর (২৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার শফিকুলের ছেলে শাকির হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মনিরুল ইসলাম নগরীর ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক জানান, নগরীর সেহড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় উজ্জল মিয়ার একটি দোতলা বাড়ির নিচতলার কক্ষে কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গোপন তথ্য পায় ডিবি পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হন অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হলে তাঁদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয়।
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি মাহবুবুল হক বলেন, মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও সরবরাহ বন্ধে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলামের গ্রেফতারের বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসায় ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।


