ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সেবাটি চালুর জন্য ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের সময়কে সম্ভাব্য উদ্বোধনের সময় হিসেবে বিবেচনা করছে স্পটিফাই। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফির বাইরে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ ডলার দিতে হতে পারে।
নতুন এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সৃজনশীলতা অনুযায়ী গান পরিবর্তনের সুযোগ। বর্তমানে কোনো গান শুনতে হলে সাধারণত শিল্পীর প্রকাশিত মূল সংস্করণ বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত রিমিক্সের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে স্পটিফাইয়ের পরিকল্পিত এআই সুবিধা চালু হলে শ্রোতারাই নিজেদের পছন্দমতো গানের ধরন, সুর ও পরিবেশনায় পরিবর্তন আনতে পারবেন।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রচলিত লোকগানকে নাচের উপযোগী আধুনিক সংগীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। একইভাবে একটি গানের সংগীতায়োজন পরিবর্তন করে সেটিকে ভিন্ন ঘরানায় উপস্থাপন করা যাবে। এমনকি একজন শিল্পীর কণ্ঠে অন্য শিল্পীর গান গাওয়ার মতো সংস্করণ তৈরির সুযোগও থাকতে পারে। ফলে সংগীতপ্রেমীদের পাশাপাশি নতুন সংগীত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের কাছেও সুবিধাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংগীতশিল্পীদের স্বত্ব ও রয়্যালটির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্পটিফাইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি রিমিক্স থেকে আয় হলে তার একটি অংশ মূল শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। এতে মূল গানের স্রষ্টারা তাঁদের কাজের নতুন সংস্করণ থেকেও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের তৈরি রিমিক্সের স্ট্রিমিংয়ের হিসাব মূল গানগুলোর চার্টে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে কোনো গানের জনপ্রিয়তা নির্ধারণে শুধু মূল সংস্করণের স্ট্রিমিং নয়, শ্রোতাদের তৈরি নতুন সংস্করণগুলোর জনপ্রিয়তাও বিবেচনায় আসতে পারে।
নতুন সেবাটি চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্পটিফাই ইতিমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংগীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগীত প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ, স্বাধীন রেকর্ড লেবেলগুলোর সংগঠন মার্লিন এবং ফরাসি সংগীত প্রতিষ্ঠান বিলিভ।
তবে সংগীতশিল্পী ও তাঁদের গানের স্বত্বাধিকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী আরও দুটি বড় প্রতিষ্ঠান সনি মিউজিক এবং ওয়ার্নার মিউজিকের সঙ্গে স্পটিফাইয়ের আলোচনা এখনো চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে নতুন সেবাটির আওতায় আরও বিস্তৃত সংগীতভান্ডার যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে সংগীতশিল্পে ইতিমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গান তৈরি, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, সুর সংযোজন এবং সংগীতের নতুন সংস্করণ তৈরিতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে শিল্পীদের কণ্ঠস্বর ও সৃষ্টিকর্মের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, কপিরাইট এবং রয়্যালটি বণ্টন নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
স্পটিফাইয়ের পরিকল্পিত উদ্যোগে এসব বিষয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নতুন সেবাটির গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মূল শিল্পীদের অনুমতি, তাঁদের সৃষ্টিকর্মের স্বত্ব এবং রিমিক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্পটিফাইয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন সুবিধাটির চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য, মূল্য এবং উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবাটি চালু হলে সংগীত শোনার পাশাপাশি গানকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাবেন স্পটিফাইয়ের গ্রাহকেরা। এতে প্রচলিত মিউজিক স্ট্রিমিংয়ের ধারণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এ উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির মান, শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং কপিরাইট সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থার ওপর।


