ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় স্বাগতিক লে আর্ভে। ১৮ মিনিটে জশ মাজারের গোলে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় তারা। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিক দল।
পিএসজির আক্রমণভাগের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে যায় সফরকারীদের হাতে। ২৬ মিনিটে মিকা গোডটসের গোলে সমতায় ফেরে প্যারিসের ক্লাবটি। বক্সের ভেতর থেকে হাকিমির নিখুঁত পাস পেয়ে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হন বেলজিয়ান উইঙ্গার। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।
সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান হাকিমি। ২৮ মিনিটে সেনি মায়ুলুর পাস থেকে ডান দিকের কঠিন কোণ দিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান পিএসজি অধিনায়ক। তাতে প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
বিরতির পরও পিএসজির আক্রমণের ধার কমেনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দলটি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাকিমি। তাঁর নিখুঁত শটে বল জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১।
এর সাত মিনিট পর সতীর্থের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন এই মরক্কান ডিফেন্ডার। ৬২ মিনিটে সেনি মায়ুলুর গোলে সহায়তা করে দলের চতুর্থ গোল নিশ্চিত করেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন পিএসজি অধিনায়ক।
এরপর ৬৯ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাকিমি। এটি ছিল তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই ম্যাচে তিনটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করে দলের ৫-১ ব্যবধানের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পিএসজি। তুলনামূলক দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে নেমেও প্রতিপক্ষের মাঠে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স ফরাসি ক্লাবটির শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছে পিএসজি। লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। নয় ম্যাচ শেষে ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্যারিসের ক্লাবটি। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লিল।
লে আর্ভের বিপক্ষে জয়টি শুধু তিন পয়েন্ট অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাকিমির এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পিএসজির আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। গোল করা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই ম্যাচজুড়ে নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি।


