বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলাকে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা। চুরি হওয়া সম্পদের পরিমাণ আগের বড় ঘটনাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে গত বছর প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে বিন্যান্সে এবারের হামলার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সেই রেকর্ডকেও বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে।
ক্রিপ্টো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলিপটিকের প্রধান বিজ্ঞানী টম রবিনসন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি সম্ভবত ইতিহাসের যেকোনো ধরনের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা। তাঁর মতে, চুরির পরিমাণ এবং হামলার ব্যাপকতা বিবেচনায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা বিন্যান্সের
হামলার পর গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিন্যান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি শনাক্ত করা হয়েছে, যা জব্দ বা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বিন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে এবং হামলার কারণে হওয়া সব আর্থিক ক্ষতি প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করবে। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৬৩৪ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে।
এ ধরনের বড় সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ সংরক্ষিত থাকে। নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা দিলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পুরো বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যেতে পারে।
প্রকৌশলীর ল্যাপটপ থেকে হামলার সূত্রপাতের ধারণা
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিন্যান্সের একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক করার মধ্য দিয়ে এই হামলার সূচনা হতে পারে। ওই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে বিন্যান্সের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত জটিল। এতে শুধু একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা নয়, বরং একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হামলার পুরো প্রক্রিয়া এবং অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের কাজ করতে হচ্ছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থার যেকোনো একটিতে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে বড় অঙ্কের ডিজিটাল সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠীর দিকে সন্দেহ
সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্লেষণকারী তিনটি প্রতিষ্ঠান—টিআরএম ল্যাবস, এলিপটিক এবং চেইনঅ্যানালাইসিস—এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে। টিআরএম ল্যাবস এ বিষয়ে উচ্চ মাত্রার নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যেও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হামলার ধরন উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের পরিচিত কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেডারট্রেইটর উত্তর কোরিয়ার অন্যতম দক্ষ হ্যাকিং গোষ্ঠী। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান লক্ষ্য। গোষ্ঠীটির সদস্যদের মধ্যে দেশটির সাইবার কার্যক্রমে অভিজ্ঞ অপারেটররা রয়েছেন। এর আগে উত্তর কোরিয়ার আর্থিক খাতকেন্দ্রিক হ্যাকিং ইউনিট এপিটি৩৮-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সোফোসের হুমকি গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রাফে পিলিং বলেন, বিন্যান্সে হামলার প্রাথমিক তথ্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের পরিচিত কর্মকৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কীভাবে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের অনুমোদন দেন, তা বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ।
চাকরির প্রলোভনেও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ফাঁদে ফেলে হ্যাকাররা
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা শুধু সরাসরি প্রযুক্তিগত দুর্বলতার সুযোগ নেয় না; প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের লক্ষ্য করেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। বিশেষ করে সফটওয়্যার নির্মাতা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
কখনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করে, আবার কখনো ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে কর্মীদের ফাঁদে ফেলা হয়। চাকরির সাক্ষাৎকার বা নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে বলা হয়। এসব সফটওয়্যারের আড়ালে থাকা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাকাররা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ, লগইন তথ্য এবং অন্যান্য সংবেদনশীল উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারে।
একবার কোনো কর্মীর অ্যাকাউন্ট বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশের পথ তৈরি হয়। এরপর কর্মীদের দায়িত্ব, অর্থ স্থানান্তরের নিয়ম এবং নিরাপত্তা অনুমোদনের প্রক্রিয়া বুঝে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
গবেষকদের মতে, বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কর্মীদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে হ্যাকাররা নিজেদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা
ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনায় দেশটির হ্যাকারদের নাম উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়া অন্তত ৬৭৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে বলে হিসাব দিয়েছে চেইনঅ্যানালাইসিস। এই হিসাবের মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম থেকে চুরি হওয়া প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদও রয়েছে।
এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে বিটগেট নামের আরেকটি ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম থেকে ৩৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার হিসাব বিবেচনায় উত্তর কোরিয়ার চুরি করা ক্রিপ্টো সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিটেক্সের গবেষক মাইকেল বার্নহার্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো সম্পদ চুরির পর তা সরাসরি ব্যবহার করা হ্যাকারদের জন্য কঠিন। কারণ, ব্লকচেইনে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এসব লেনদেনের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এ কারণে চুরি করা অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে লেনদেন করা হয়।
গবেষকদের দাবি, এ কাজে হ্যাকাররা চীনের সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলোর সহায়তা নিয়ে থাকে। এসব চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মধ্য দিয়ে অর্থের মূল উৎস আড়াল করা এবং তা ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
পারমাণবিক ও সামরিক কর্মসূচিতে অর্থায়নের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য সাইবার অপরাধকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি, অর্থ পাচার এবং বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত নাগরিকদের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানায়, উত্তর কোরিয়ার নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গোপনে চাকরি নিচ্ছেন। এসব চাকরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর পাশাপাশি তাঁরা প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্যও সংগ্রহ করছেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিদেশে কর্মরত এসব ব্যক্তির আয় এবং সাইবার হামলার মাধ্যমে চুরি করা অর্থ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও সামরিক কর্মসূচিতে অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধ এখন বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থ জোগানোর জন্য দেশটি ক্রমেই সাইবার অপরাধের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অর্থ পাচার এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাইকেল বার্নহার্টের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তিতে পূর্ণ আধিপত্য অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশটির ড্রোন কর্মসূচির অগ্রগতি, ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি এবং বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত উত্তর কোরীয় নাগরিকদের উপার্জনের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায়ও উত্তর কোরিয়া সহায়তা করছে। দেশটি রাশিয়ায় সেনা, গোলাবারুদ এবং অস্ত্রের যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভূমিকা রাখছে বলে তাঁর ধারণা।
বিন্যান্সের ওপর এই হামলা তাই কেবল একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির ঘটনা নয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থপাচার, রাষ্ট্রীয় সাইবার কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয় জড়িয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করলেই চলবে না; কর্মীদের তথ্য সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ অনুমোদনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন।



