শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কাপ্তাই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বিয়ের সূত্রে তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করায় স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত।
এদিকে, এমন ঘটনায় শিশুটির পরিবারে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিশুটির বাবা বলেন, তাঁর অবুঝ সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শিশুটির বাবার প্রত্যাশা, এই ঘটনার যথাযথ বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও প্রশাসন—সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যেন আইন অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


