বল খুঁজতে গিয়ে পুকুরে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় শিশুদের খেলতে গিয়ে বল উদ্ধারের চেষ্টায় পুকুরের কচুরিপানা সরাতেই বেরিয়ে এসেছে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ। পুকুরে ভেসে থাকা মরদেহটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। পরে তাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ছাগলনাইয়া উপজেলা আদালত মাঠসংলগ্ন শহীদ মিনারের পাশের একটি সরকারি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু প্রায় ছয় থেকে সাত দিন আগে হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় এবং কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে আদালত মাঠসংলগ্ন এলাকায় একদল শিশু খেলাধুলা করছিল। খেলার একপর্যায়ে তাদের বলটি পাশের সরকারি পুকুরে পড়ে যায়। বলটি খুঁজে বের করতে শিশুরা পুকুরের কিনারায় গিয়ে কচুরিপানা সরাতে শুরু করে। এ সময় পানির ওপর ভেসে থাকা একটি মরদেহ তাদের চোখে পড়ে। অপ্রত্যাশিত এ দৃশ্য দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানায়।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুকুরের পাশে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ছাগলনাইয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং মরদেহ ফুলে উঠেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধারের পর পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য সেটি ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, পানিতে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে মরদেহটি পচে ফুলে গেছে। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তির বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, শুক্রবার রাতে পিবিআইয়ের একটি দল ফেনী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরায় প্রাথমিক পর্যায়ে এ পদ্ধতিতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিচয় শনাক্তের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে তথ্য প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ছাগলনাইয়া ও আশপাশের এলাকায় কেউ নিখোঁজ হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই ব্যক্তির চলাফেরা, পুকুরের আশপাশে তাঁর উপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো সন্দেহজনক ঘটনার তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে অপেক্ষা ময়নাতদন্তের

পুকুরে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় সরকারি পুকুরে কয়েক দিন ধরে মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলছে না পুলিশ।

মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়া তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরিচয় জানা গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিখোঁজ হওয়ার সময় ও পরিস্থিতি এবং সর্বশেষ কোথায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা, বায়োমেট্রিক তথ্য, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা এবং সিসিটিভি ফুটেজ—সবকিছু সমন্বয় করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।