স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টুলু মিয়া আমরুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় কৃষক এই ব্যক্তি নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তাঁর স্ত্রী জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে চাকরি করেন। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন না।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পেটের অসুস্থতায় ভুগছিলেন টুলু মিয়া। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর ছোট মেয়ে সম্প্রতি বাবার বাড়িতে আসেন। শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে বাবার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ সময় বাড়ির ভেতরে এমন দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
নিহতের ছোট মেয়ের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর বাবা নিজেই ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, টুলু মিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
একাকী বসবাস, সাম্প্রতিক শারীরিক অসুস্থতা এবং ঘরের ভেতরে গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়গুলো ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে শুধু পারিবারিক বক্তব্য বা প্রাথমিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা—কোনোটিকেই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


