ভিয়েতনামের পরিবহন খাতে সামাজিক বীমা ফাঁকি এবং বকেয়া চাঁদা না দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রবণতা রোধে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হো চি মিন সিটির সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স এজেন্সি শহরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬,৭৮৭টি পরিবহন সংস্থায় চালক ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক বীমা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বড় ধরনের সমন্বিত পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। সম্প্রতি ফেডারেশন অফ লেবারের তদারকি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এজেন্সির ডেপুটি ডিরেক্টর নগুয়েন কুওক থান এই প্রস্তাব পেশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সমবায় প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও একক পরিচালকদের অধীনে বর্তমানে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৩টি নিবন্ধিত যানবাহন চালু রয়েছে। বিশাল এই পরিবহন খাতের সার্বিক শৃঙ্খলায় তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রকৃত চাকরির তথ্য আড়াল করতে সার্ভিস কিংবা কো-অপারেশন চুক্তির মতো নানা কৌশল ব্যবহার করছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মী ও চালকদের জন্য সামাজিক, স্বাস্থ্য এবং বেকারত্ব বীমার মতো আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়া। এই অনিয়ম ধরতে নির্মাণ বিভাগকেও যৌথ তদন্তে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় এবং স্থানীয় স্তরে বকেয়া বীমার পরিমাণ উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.৬ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং (ভিএনডি), যা ভিয়েতনাম সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের বাৎসরিক রাজস্ব লক্ষ্যের ৮.৪ শতাংশেরও বেশি। কেবল হো চি মিন সিটিতেই অন্তত ১০০টি কোম্পানি বিগত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে বকেয়া জমিয়ে রেখেছে। প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ শ্রমিকের বিপরীতে এসব কোম্পানির বকেয়া বীমার পরিমাণ ৮৯২ বিলিয়ন ডং ছাড়িয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সাম্প্রতিক আইনি কাঠামো বীমা ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সামাজিক বীমা আইনে ইচ্ছেকৃত ফাঁকি এবং দেরিতে পেমেন্ট দেওয়াকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন জারি করা ডিক্রি ২৮৩/২০২৬/এনডি-সিপি অনুযায়ী, বেেশনের প্রকৃত তথ্য গোপন করলে কিংবা তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া শোধ না করলে অনিয়মকৃত অঙ্কের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে, যার সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ মিলিয়ন ডং। এমনকি বারবার অনিয়ম করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিধান রাখা হয়েছে।
আইন কঠোর হলেও সব পরিবহন মালিক অনিয়ম করছেন না। হো চি মিন সিটির পূর্বাঞ্চলের এক পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তা জানান, তাঁদের চালকদের কাজে যোগ দেওয়ার শুরুতেই চাকরির চুক্তি ও সামাজিক বীমার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক। কারণ দুর্ঘটনা বা তদন্তের সময় অনিয়ম ধরা পড়লে ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় ও কোম্পানি বড় জরিমানার মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও বহুজাতিক লজিস্টিক সংস্থাগুলোর জন্য এই আইনি পরিবর্তন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ভিয়েতনামে এখন আর বীমা অনিয়মকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই; অনিয়মের ধরন অনুযায়ী এখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর আইনি ও সামাজিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।


