চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম প্রধান সহযোগী সাব্বির হোসেন সানিকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে সাজ্জাদ বাহিনীর অপকর্মের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের উন্মোচন ঘটেছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম দুই রূপকার ‘ছোট সাজ্জাদ’ এবং ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে বন্দী থাকায় পুরো সিন্ডিকেটের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মূল দায়িত্ব পান এই সানি। মূলত চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গ্যাং কার্যক্রমের কলকাঠি নাড়তেন তিনি। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করার পর গত বছর বড় সাজ্জাদের সরাসরি নির্দেশে দেশে ফেরেন সানি। বাংলাদেশে এসেই তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় আস্তানা গাড়েন এবং সাজ্জাদ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সানি সাধারণ কোনো অপরাধী নন; তিনি বড় সাজ্জাদের সরাসরি মাসোহারা পাওয়া বেতনভোগী ক্যাডার। প্রতি মাসে বড় সাজ্জাদ তাঁকে ৫০ হাজার টাকা করে বেতন দিতেন। কারাগারে আটক ডেভিড ইমনের পরিবর্তে সানিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সানির চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড গোয়েন্দা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে।
সাজ্জাদ বাহিনীর কাজের ধরন ছিল অত্যন্ত হিংসাত্মক। চাঁদা দাবির পর কোনো ব্যবসায়ী বা ভুক্তভোগী অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে সশস্ত্র হামলা চালাত। এভাবে পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করত চক্রটি।
গ্রেফতার সানির মূল বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. মালেক। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় একাধিক গুরুতর মামলা চলমান রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, সানি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অত্যন্ত ভরসাযোগ্য ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি তাঁর চাঁদা দাবি ও হুমকির একটি অডিও রেকর্ড ডিবির হাতে এসেছে, যা গভীর মনোযোগের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁকে গ্রেফতারের ফলে সাজ্জাদ বাহিনীর অপকর্মের শক্ত ঘাঁটি মারাত্মক আঘাত পেল বলে মনে করছে পুলিশ।


