হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় জালিয়াতি, অব্যাহতির সুপারিশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্য ৭৫ জনের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ভূয়া তথ্য ও জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। মামলার মূল বাদি নুর হোসেন গুলিতে আহত হওয়ার দাবি করলেও তদন্তে দেখা গেছে তিনি মোটেও গুলিবিদ্ধ হননি। হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার যে সনদপত্র তিনি জমা দিয়েছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। পুলিশি তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ মোট ৮৪ জন আসামিকে এই মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় নুর হোসেন নামের ওই তরুণ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়ূর ভিলার সামনে গণআন্দোলন চলাকালে পুলিশি ক্র্যাকডাউনে তিনি মারাত্মক আহত হন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশের ছররা গুলিতে তাঁর পিঠে ছয়টি, বাম হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান হাঁটুর পাশে একটিসহ মোট নয়টি গুলি লাগে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদি নুর হোসেন মামলায় নজিরবিহীন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহারের সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যে জরুরি চিকিৎসার কাগজপত্র যুক্ত করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নুর হোসেন কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেননি এবং হাসপাতালে জমা দেওয়া নথিপত্র ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুয়া সার্টিফিকেটে দুটি বড় ধরণের গরমিল চিহ্নিত করেছেন।

একই সাথে সরকারিভাবে প্রণীত জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের তালিকায়ও নুর হোসেনের নামের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত ও সার্বিক পরিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, মূল বাদি নুর হোসেন আদৌ আহত হননি এবং মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে মনগড়া ও কাল্পনিক আঘাতের বিবরণ তৈরি করেছিলেন।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানান, আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে বাদি নুর হোসেনের ওপর নোটিশ জারির নির্দেশ প্রদান করেছেন। আগামী ১ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় প্রাথমিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্য মামলায় কারাগারে থাকা আরও ৮ জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জালিয়াতি ও ভুয়া অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৮৪ জন আসামির সকলকেই মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।